১ মাস জেলে থাকলেই হারাবে মন্ত্রীর পদ! সংসদে পাস হতে চলেছে এই সংশোধনী বিল

Published on:

Published on:

lose ministerial position in one month of jail, constitution amendment bill is coming
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দেশের কোনও মন্ত্রী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন জেলে থাকলেও কি তিনি পদে বহাল থাকতে পারবেন- এই প্রশ্নেরই আইনি সমাধান খুঁজতে আনা হয়েছে সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল (constitution amendment bill)। গত বছর সংসদে উত্থাপিত এই বিলকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আসন্ন বাদল অধিবেশনেই বিলটি পাশ করানোর জন্য সংসদে তোলা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বাদল অধিবেশনে আসতে চলেছে সংবিধান সংশোধনী বিল (constitution amendment bill)

১৭ জুলাই যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) তাদের এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে। সংসদীয় সূত্রের খবর, জেপিসির রিপোর্টে বিলের সবচেয়ে আলোচিত বিধানটি বহাল রাখার সুপারিশ করা হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এমন কোনও অপরাধ যার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড, সেই মামলায় অভিযুক্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁর মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে একইসঙ্গে কমিটি এমন কিছু নিরাপত্তামূলক বিধানেরও সুপারিশ করতে পারে, যাতে এই আইন রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না যায়। আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই অধিবেশনেই বিলটি আলোচনা এবং পাসের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এই সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব কেন আনা হয়েছিল, তার পেছনেও রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজনৈতিক ঘটনা। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার হওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল ছিলেন। একইভাবে, তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী ভি. সেন্থিল বালাজিও গ্রেফতারের পর মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতেই গত বছরের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল পেশ করেন।

তবে বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তি এবং বিক্ষোভের মুখে তা সঙ্গে সঙ্গে পাস করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী পর্যবেক্ষণের জন্য বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের সেই কমিটি বিলের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকে এই কমিটিতে যোগ দেয়নি।

lose ministerial position in one month of jail, constitution amendment bill is coming

আরও পড়ুন : মমতার নির্দেশেই অভয়ার স্যাম্পেলে কারচুপি? আরজি কর মামলায় প্রাক্তন ফরেন্সিক আধিকারিকের বিস্ফোরক দাবি

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অংশ হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন সরকার আদায় করতে পারে কি না, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচনার বিষয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে। জেপিসির রিপোর্টে কী সুপারিশ করা হয় এবং বাদল অধিবেশনে সরকার কী অবস্থান নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই সংশোধনী বিলের।