বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এদিন সকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সকল নারীর উদ্দেশ্যে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে শুধু শুভেচ্ছা বার্তা নয়, এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণও শানিয়েছেন তিনি।
ধরনা মঞ্চ থেকে কী বক্তব্য রাখলেন মমতা (Mamata Banerjee)?
ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে চলা ধর্নার তৃতীয় দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি বাংলার মহিলাদের জন্য চালু বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন এবং প্রতিবাদে পথে নামার ডাকও দেন।
এছাড়া রবিবার সকালে নিজের X হ্যান্ডলে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি লেখেন, তাঁর কাছে শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটা দিনই নারী দিবস। সেই সঙ্গে বাংলার মাটি ও বাংলার নারীদের অবদান নিয়েও তিনি গর্বের কথা তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই মাটি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙ্গিনী হাজরা, কল্পনা দত্ত, বীণা দাস ও সুনীতি চৌধুরীর মতো সংগ্রামী নারীদের মাটি। পাশাপাশি মাদার টেরিজার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলার প্রতিটি নারীই সমাজের সব স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ
পোস্টে কেন্দ্রীয় সরকারকেও একহাত নেন মমতা (Mamata Banerjee)। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে চাপ বাড়বে বলে দাবি করে তিনি জানান, এর প্রতিবাদেই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পথে নামবে তৃণমূল। মহিলাদের কালো শাড়ি পরে হাতা ও খুন্তি নিয়ে মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে মমতা লেখেন, রাজ্য সরকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে, কিন্তু কেন্দ্রের কাজ মানুষকে হয়রানি করা।
বাংলায় মহিলাদের জন্য প্রকল্পের খতিয়ান
মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও বিস্তারিত তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে এখন উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪১ লক্ষ। সম্প্রতি এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণও ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তফসিলি ও আদিবাসী মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা এবং অন্যরা ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন। এছাড়া কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ছাত্রী পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৩ লক্ষ তরুণীকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মমতা।
নারী সুরক্ষা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের উল্লেখ
নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্যের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, কলকাতা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহরের তকমা পেয়েছে। সেই নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কলকাতা পুলিশের তরফে ‘পিঙ্ক বুথ’ এবং অল-উইমেন ‘SHINING’ মোবাইল পরিষেবা চালু হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যে ‘অপরাজিতা বিল’ পাশ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ৪৯টি মহিলা থানা এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ৫২টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ
মহিলাদের স্বাস্থ্যরক্ষায় রাজ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী । রাজ্যে ১৭টি ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’ তৈরি হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ১৩টি ‘ওয়েটিং হাট’ও তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৮.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৯.১৪ শতাংশ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের আওতায় ১.২১ কোটি মহিলাকে নিয়ে ১২ লক্ষের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রশিক্ষণ ও ঋণের মাধ্যমে তাঁদের স্বনির্ভর করার চেষ্টা চলছে।এছাড়া কর্মরত মহিলাদের সুবিধার জন্য ৭৩০ দিনের সবেতন চাইল্ড কেয়ার লিভ চালু করা হয়েছে। ‘কর্মাঞ্জলি’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যজুড়ে কর্মজীবী মহিলাদের থাকার জন্য ১৩টি হস্টেলও তৈরি করা হয়েছে। পঞ্চায়েতে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথাও তাঁর পোস্টে উঠে আসে।

আরও পড়ুনঃ “রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু করার পরিকল্পনা চলছে নাকি?” ধরনা মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক প্রশ্ন মমতার
নারী দিবসের বার্তার শেষে কবিতার ছন্দে বাংলার নারীদের সম্মান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তিনি লেখেন, বাংলার ‘লক্ষ্মীরা’ ঘরে ঘরে আলো জ্বালান এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁদের ভালো থাকাই রাজ্যের অগ্রগতির পথকে আরও শক্তিশালী করবে।












