বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) একটি সরাসরি ও গুরুতর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও প্রশাসন। মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সদর দফতর ফোর্ট উইলিয়াম (বর্তমান নাম বিজয় দুর্গ) প্রসঙ্গে দাবি করেন, সেখানকার একজন উচ্চপদস্থ ‘কমান্ড্যান্ট’ তাঁর দফতরে বসে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার (Mamata Banerjee):
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, রাজ্য থেকে নির্বাচনী নাম কাটার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে, যার পিছনে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা রয়েছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমার কাছে খবর আছে, ফোর্ট উইলিয়ামে একজন কমান্ড্যান্ট এসআইআর-এর কাজ করছেন এবং বিজেপি করছেন। বসে পার্টি অফিসের কাজ করছেন।” একটি সাংবিধানিক ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বসে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কাজের এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: PoK-র মানুষও থাকতে চান ভারতের সঙ্গে! শাকসগাম ইস্যুতে কী জানালেন লাদাখের লেফ্টন্যান্ট গভর্নর?
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ব্যক্ত করে বলেন, সেনার ভূমিকা নিয়ে তাঁর কোনো প্রশ্ন নেই। তবে উর্দি পরে বা সামরিক দপ্তরে বসে কোনো আধিকারিকের রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি হাতজোড় করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানান, “প্লিজ, আপনাদের কাছে হাতজোড় করে রিকোয়েস্ট করব, এটা করতে যাবেন না।”
তাঁর অভিযোগ শুধু ফোর্ট উইলিয়ামেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, দিল্লি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেআইনিভাবে প্রায় ৫৪ লাখ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা বহু মাইক্রো অবজারভার বিজেপির হয়ে কাজ করছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের আবেদন বাতিল করছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে সৃষ্ট আতঙ্কের জেরে ইতিমধ্যে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: চরম সঙ্কটে ‘কাঙাল’ পাকিস্তান! বিদেশি ঋণ মেটাতে এবার যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চায় পড়শি দেশ
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড বা ফোর্ট উইলিয়াম কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো সরকারি বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানাবেন কি না। যেহেতু ভারতীয় সেনাবাহিনী বরাবরই রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত, তাই এই অভিযোগের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে এবং গোটা দেশ এখন ফোর্ট উইলিয়ামের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে।












