বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের ফল (West Bengal Assembly Election) প্রকাশের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন স্ট্রংরুম ঘিরে সন্দেহ, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে বাড়ছে চাপানউতোর। এই পরিস্থিতিতে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্ট্রং রুমে ঢুকছে বহিরাগত। খবর পেয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা পর বাইরে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে কী বললেন মমতা (Mamata Banerjee) ?
স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। মানুষের ভোট যেন সুরক্ষিত থাকে। অভিযোগ পেয়ে ছুটে এসেছি। কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রথমে ঢুকতে দেয়নি।” তবে ইভিএমে কারচুপির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইও মনোজ আগরওয়াল। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডিইও (নর্থ) স্মিতা পাণ্ডে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, সব ইভিএম নিরাপদে সংরক্ষিত রয়েছে।
তবে এই ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নন মুখ্যমন্ত্রী। কমিশনের বিরুদ্ধে আগেই নালিশ করেছিলেন মমতা। এবার তিনি বলেন, “এটা পুরো এক পাক্ষিক ভোট হচ্ছে। উদ্বেগ ছিল বলেই এসেছি। সিসিটিভি ফুটেজ আসছিল। বেশ কিছু জায়গায় কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছিল। বাইরের লোক এসে ব্যালট এদিক-ওদিক করছে। এই খবর শুনেই আমি ভাবি দেখে আসি একবার। এখানে তো আসার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে যেতেই দিচ্ছিল না। আমি বলি আমার যাওয়ার অধিকার আছে। শেষে RO-র অনুমতি নিয়ে ভিতরে ঢুকেছি। আমি মনে করি প্রেসের জন্য সিসিটিভি দেখার একটা জায়গা করে দেওয়া উচিত।”
এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ যদি ইভিএম লুঠের চেষ্টা করে তাহলে জীবন-মরণ লড়াই হবে। এটা তো আমার এলাকা। ১ সেকেন্ডে ১০ হাজার লোক এলাকা থেকেই জড়ো হয়ে যেতে পারে। বাইরে থেকে আনার দরকার নেই।”

আরও পড়ুন : অনলাইন গেমিংয়ে কড়া নজর কেন্দ্রের, ১ মে থেকে নতুন নিয়মে আসছে বড় বদল!
পাশাপাশি আবারও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “সিল করেছে বলছে। কিন্তু ও তো ব্যান্ডেজ করে রেখে দিয়েছে। যে কোনও সময় খুলতে পারে।” কারা এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে, সেই প্রসঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “এর জন্য ইশারাই কাফি হ্যা।” এছাড়াও ভোটগ্রহণের শেষ দফা ও গণনার দিনের ব্যবধান নিয়েও ‘চক্রান্তের’ আভাস দেন তিনি। ফল ঘোষণার আগেই স্ট্রংরুম ঘিরে টানটান পরিস্থিতি রাজনীতির মঞ্চে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা আভিযোগের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।












