সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত! ধর্ষণ থেকে খুন, মিছিলে পুলিশের ভূমিকায় ধিক্কার জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মমতার

Published on:

Published on:

Mamta Banerjee expressed disappointment regarding police during peaceful protest
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বারুইপুর কান্ড (Baruipur Rape & Murder) থেকে হকার উচ্ছেদ। বিগত দু’মাসে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনাকে ইস্যু করে আজ কলকাতার রাজপথে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamta Banerjee) দাবী এদিন বেশ কিছু শর্ত দিয়ে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা পর্যন্ত তাঁদের শান্তিপূর্ণ  মিছিল করার অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই মিছিলকে কেন্দ্র করেই এদিন একেবারে ধুন্ধুমার বেঁধে যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ

তৃণমূলের মিছিলকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে আজ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ওপর চরম ধিক্কার জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক সম্মেলনে আজ তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আজকে বিজেপির লুমপেনরা আমাদের কর্মীদের ওপর, ছোট ছোট ভাইবোনেদের ওপর, ছাত্র যুব আইটি সিনিয়র থেকে জুনিয়র সবাইকে ফেলে যেভাবে পিটিয়েছে তাও পুলিশের সামনে তা মর্মান্তিক।’

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবী, ‘মাননীয় হাইকোর্টের পারমিশন নিয়েই, এই মিছিলটা করা হয়। মোট তিনবার চেঞ্জ হয়, তারপর হাইকোর্টের পারমিশন নিয়েই কল্যাণ ব্যানার্জি হাইকোর্টে লড়েন। এরপর হাইকোর্ট আজকে ওনাদের পারমিশন দিলে সেই পারমিশন নিয়েই ওদের মিটিং মিছিল করার যখন কথা তখন আজ আমি সকাল থেকে দেখছি, পুরো এলাকায় কালীঘাট থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত ডিজে বাজাচ্ছে জোরে জোরে। অভিষেক ডিজের কথা বলেছিল তাই সিআইডি ডেকে পাঠিয়েছে। আজকে ভোর ছটা থেকে কে পারমিশন দিল? একটা রুটে মিছিল করার জন্য হাইকোর্ট যখন কাউকে আল্যাও করে তখন সেই রুটে অন্য কেউ করতে পারে না।’

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ৪৪০ কোটির ৩ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! তোলপাড় করা পদক্ষেপ ED-র

সাধারণ মানুষ আজকে আতঙ্কিত তাই প্রতিবাদ করে একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল : মমতা

এখানেই শেষ নয় বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর অভিযোগ বিজেপির গুন্ডারা নাকি তাঁকে থ্রেট করেছে। মমতার দাবী, ‘আমার বাড়ির সামনে আজকে সকাল বেলায় প্রায় ৪০০-৫০০ মোটরবাইক হেলমেট ছিল না কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে আমাকে থ্রেট করতে করতে আমার পাড়া দিয়ে বারবার যাতায়াত করছিল। আমি কিছু মাইন্ড করিনি। কিন্তু যখন দেখলাম আমাদের কর্মীরা বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা পর্যন্ত হাইকোর্টের পারমিশন নিয়ে মিছিল করছে। এমনকি মাইক্রোফোন ইউজ করতে বারণ করেছে হাইকোর্ট আমরা সেটাও করতে দিইনি। কয়টা হ্যান্ড মাইক নিয়ে তারা একটা মিছিল করছিল এবং তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছিল বারুইপুর থেকে দুর্গাপুর, মেদিনীপুর থেকে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার বেহালা থেকে সোনারপুর সব মেয়েদের উপর অত্যাচার ধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে।’

একইসাথে এদিন তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ আজকে আতঙ্কিত হকার থেকে শুরু করে দোকানদার থেকে শুরু করে মিড ডে মিল থেকে শুরু করে ওয়ার্কার সবাই আজকে আক্রান্ত। তাই প্রতিবাদ করে একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল করার পারমিশন হাইকোর্ট আমায় দিয়েছিল।’

আরও পড়ুনঃ আকাশ-পাতাল তফাৎ! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা কতটা আলাদা জানুন 

কী হয়েছিল মিছিলে?

আজকের মিছিলের ঘটনা বিস্তারিত জানাতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি নিজে যেতে পারতাম কিন্তু আমি যাইনি এই কারণে কারণ আমি গেলে ভিড়টা ১০ ডবল বেশি হত।’ পুলিশের ব্যর্থতার কথা জানিয়ে এদিন মমতার কটাক্ষ, ‘আমার কাছে খবর আসছিল সকাল থেকে পুরো এলাকায় বিজেপি লুনপেন দিয়ে ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে পুলিশ আগে থেকেই ওদের অ্যারেঞ্জমেন্ট করে রেখে দিয়েছিল। ‘

নিজের সরকারের কথা মনে করিয়ে দিতেও এদিন ভুললেন না মমতা। তাঁর কথায়, ‘পুলিশের এই তান্ডব কখনো দেখিনি। আমিও পুলিশ চালিয়ে এসেছি প্রশাসন চালিয়ে এসেছি। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে। কিন্তু আপনারা হাই কোর্টের রায়ও মান্য করছেন না? হাইকোর্টের রায় মান্য করে আপনারা মিছিলটা তো শান্তিপূর্ণভাবে করতে দিতে পারতেন? কেন মিছিলের মধ্যে বিজেপিকে ঢুকতে অ্যালাও করলেন। এবং সারা রাস্তা জুড়ে মেয়েদের গোপনীয় পার্টস থেকে শুরু করে সারা শরীরে আপনারা মেরেছেন লাঠি দিয়ে, রড দিয়ে, ইট দিয়ে আরও কিছু কিছু জিনিস দিয়ে যেগুলো বলতে আমার লজ্জা লাগে।’

আগুন লাগাতে নয় আগুনটা নেভাতে চাই জানালেন মমতা!

নিজস্ব ভঙ্গীতে এদিন তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন আগুন যদি কারো বাড়িতে লাগে সেই আগুনটা কিন্তু চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। আমরা আগুন লাগাতে চাই না আমরা আগুনটা নেভাতে চাই । তাই আপনাদেরও আজ দায়িত্ব প্রতিরোধ করা প্রতিবাদ করা।’

একইসাথে তৃণমূল নেত্রী জানান, ‘ আমি আজ প্রায় ২৫ জনকে হসপিটালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম। তাও পুলিশ ব্যারিকেড করে রেখে দিয়েছে রাস্তায় যাতে গাড়িগুলো যেতে না পারে । আমি জানিনা যে হাসপাতালে তারা গেছে আদৌ তারা সেখানে ট্রিটমেন্ট পাবে কিনা। হয়তো একটু লুকো প্লাসটার বেঁধে দিয়ে পুলিশের কথায় যোগ্য ট্রিটমেন্ট না করেই হাসপাতাল থেকে তাদের ফিরিয়েও দেওয়া হবে।’

সবশেষে রাজ্য প্রশাসনের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার হাত জোড় করে আবেদন থাকবে প্রশাসনের কাছে প্লিজ এক পক্ষ না হয়ে নিরপেক্ষ থাকুন। মা বোনেদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচান, হকারদের বাঁচান বেকারদের বাঁচান গ্রাম বাংলাকে বাঁচান, কলকাতাকে বাঁচান।’ একইসাথে তাঁর প্রশ্ন, ‘আর কতদিন আর কতবার অপেক্ষা করারও তো একটা লিমিট আছে?আপনারা কি চান আমাদের কন্ঠ রোধ করতে?আপনারা আমাদের নজরবন্দী করে রেখে দিয়েছেন প্রায়, বেরোতেই দিচ্ছেন না।’