৫০ বারের ব্যর্থতায়ও বজায় রাখেন মনোবল! ৪ বার NET পাশ করে লেকচারার হলেন মনোহর

Updated on:

Updated on:

Manohar Rajpurohit's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম রাজস্থানের সীমান্তবর্তী বারমের জেলার এক সাধারণ পরিবারের যুবক মনোহর রাজপুরোহিত আজ সাফল্যের (Success Story) এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বারমের জেলার ছোট্ট এক গ্রাম বিশু কলার বাসিন্দা মনোহরের জীবনের গল্প এখন হাজার হাজার তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলে থাকেন, সাফল্যের আগে ঈশ্বর মানুষকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন, আর সেই পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে জীবনে চলার পথ একেবারে মসৃণ হয়ে যা। আর তারই এক জীবন্ত উদাহরণ মনোহর।

মনোহরের অভাবনীয় সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

মনোহর নিজের লক্তষ্বেযে পৌঁছনোর আগে বহুবার ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি এক-দু’টি নয়, প্রায় ৫০টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তাঁকে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও তিনি হাল ছেড়ে দেননি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতাকে শিক্ষায় পরিণত করে আরও দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যর্থতার পর্ব চললেও তাঁর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা সবসময় অটুট ছিল।

আরও পড়ুন: EV-র ক্রেতা-বিক্রেতারা হবেন লাভবান! ‘পিএম ই-ড্রাইভ’ প্রকল্পে নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

অবশেষে নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছার সেই কাঙ্খিত ফলের স্বাদ মেলে। স্কুল লেকচারার (ইতিহাস) পরীক্ষায় ৩৯তম স্থান অর্জন করে সাফল্যের মুখ দেখেন মনোহর। তাঁর এই কৃতিত্ব শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সেই সব যুবকদের জন্য বার্তা, যারা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়েন। মনোহরের জীবন প্রমাণ করে, অবিরাম চেষ্টা ও ধৈর্য থাকলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

ছোটবেলা থেকেই সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মনোহর। গ্রামের স্কুলেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন এবং চারবার নেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করছেন। তাঁর বাবা পদম সিং রাজপুরাহিত একটি মিষ্টির দোকান চালান, আর মা একজন গৃহিণী। একেবারে সাধারণ পরিবার থেকেই উঠে আসা এই সাফল্যের গল্প আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

Manohar Rajpurohit's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: রবিবারের টেবিলে বাড়তি চমক, নল্লি নিহারির রিচ ফ্লেভারে মন জয় করুন সবার, রেসিপি রইল

মনোহর নিজেই জানিয়েছেন, ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি। আরএএস থেকে শুরু করে পাটোয়ারী, গ্রাম সেবক, সাব-ইন্সপেক্টর, এলডিসি, এমনকি ফরেস্ট গার্ড ও কনস্টেবল—এমন বহু পরীক্ষায় অংশ নিয়েও তিনি সফল হননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ৫০টি ব্যর্থতার পরেই এসেছে সাফল্যের (Success Story) স্বাদ। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে, প্রতিটি ব্যর্থতা মানুষকে সাফল্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়, যদি থাকে অটুট ধৈর্য ও পরিশ্রম।