সারারাত যুদ্ধের সাইরেন, বাড়ির বাইরে মিসাইল! ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়লেন ইউক্রেনের এই খেলোয়াড়

Published on:

Published on:

Marta Kostyuk makes history at the French Open.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিগত কয়েক বছর ধরে যুদ্ধের চরম সঙ্কট পরিলক্ষিত করেছে ইউক্রেন। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। যদিও, যুদ্ধের ভ্রুকুটিতে দূরে সরিয়ে রেখে ২৩ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় টেনিস তারকা মার্তা কস্তিউক (Marta Kostyuk) ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোর্টে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এই সাফল্য ক্রীড়া জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টুর্নামেন্টে ১৫ তম বাছাই হিসাবে কস্তিউক পরপর ২ টি অবাক করা কাণ্ড ঘটিয়েছেন। প্রথমে তিনি ৪ বারের ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন ইগা সোয়াতেককে এবং পরে সপ্তম বাছাই এলিনা সভিতোলিনাকে পরাজিত করেন। এই চিত্তাকর্ষক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি তাঁর কেরিয়ারে প্রথমবারের মতো একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইভেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছে ছেন। মার্তা কস্তিউক ওপেন এরা-র ইতিহাসে ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে পৌঁছনো প্রথম ইউক্রেনীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসাবেও বিবেচিত হচ্ছেন।

ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়লেন মার্তা কস্তিউক (Marta Kostyuk):

মার্তা কস্তিউক দুর্দান্ত ফর্মে আছেন: জানিয়ে রাখি যে, মার্তা কস্তিউক বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। গত মাসে মাদ্রিদ ওপেন শিরোপাজয়ী কস্তিউক এখন ক্লে কোর্টে টানা ১৭ টি ম্যাচ জিতেছেন। ডাব্লিউটিএ র‍্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে, ২০০৫ সালে জাস্টিন হেনিনের পর তিনিই ইতিহাসের দ্বিতীয় মহিলা খেলোয়াড় যিনি ক্লে কোর্টে এমন অবিশ্বাস্য জয়ের ধারা অর্জন করেছেন। এই চমৎকার ফর্ম দেখে সকলেই তাঁকে শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম দাবিদার হিসাবে বিবেচনা করছেন।

যুদ্ধের মাঝে বসবাসকারী একটি পরিবার: কস্তিউক বর্তমানে তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেও তাঁর কঠিন লড়াই এবং কঠোর বাস্তবের কাহিনিও সবাইকে চমকে দিয়েছে।  ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে কস্তিউক এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।  যুদ্ধের সময় বাড়ির বাইরে বিমান হামলার সাইরেন বাজলেও তিনি কিয়েভে টেনিস অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: চিন্তা বাড়াচ্ছে এল নিনো! আবহাওয়া ও কৃষিকাজ পর্যবেক্ষণের জন্য অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি কেন্দ্রের

বাড়ির বাইরে বোমা হামলা: এদিকে, কোস্তিউক তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি প্রায়শই তাঁরা সেইসব সতীর্থ খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন যাঁরা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারছেন না এবং বোমা হামলার মধ্যে তিনি  খেলার মানসিক ও আবেগগত প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেছেন। হাজারও প্রতিবন্ধকতা সামলে কোস্তিউক যখনই কোর্টে পা রাখেন, গ্যালারিতে থাকা ইউক্রেনের পতাকা তাঁকে শক্তি প্রদান করে এবং এইভাবেই তিনি ইউক্রেনের হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন।

আরও পড়ুন: ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে নজির Maruti Suzuki-র! লঞ্চ হল দেশের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি

মার্তা কস্তিউক, দেশের সঙ্কটকেই শক্তিতে পরিণত করে লড়াই চালিয়ে যান। এখন ফ্রেঞ্চ ওপেন ট্রফি থেকে তিনি মাত্র দুই ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সাইরেনের ভয় এবং প্রিয়জন হারানোর ভয়কে জয় করে গ্র্যান্ড স্ল্যামের এত কাছাকাছি পৌঁছেছেন মার্তা কস্তিউক। তাঁর এই অদম্য লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন বিশ্বের ক্রীড়া প্রেমীরা।