ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে নজির Maruti Suzuki-র! লঞ্চ হল দেশের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি

Published on:

Published on:

Maruti Suzuki launches India's first flex-fuel car.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে নতুন ইতিহাস গড়ল মারুতি সুজুকি (Maruti Suzuki)। মূলত, দেশের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারী এই সংস্থা বৃহস্পতিবার ভারতের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল প্যাসেঞ্জার কার লঞ্চ করেছে। সংস্থাটি তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং জনপ্রিয় গাড়ি, ওয়াগন আর-এ এই নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে এসেছে। এই প্রসঙ্গে মারুতি সুজুকির ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা CEO হিশাশি তাকেউচি জানিয়েছেন যে, ফ্লেক্স-ফুয়েল ওয়াগন আর-এর আগমন কেবল একটি নতুন গাড়ির সূচনা নয়, বরং এটি ভারতের জ্বালানি যাত্রার একটি নতুন অধ্যায়।

ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে নজির মারুতি সুজুকির (Maruti Suzuki)!

জানিয়ে রাখি যে, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর উপস্থিতিতে মারুতি সুজুকি এই অনন্য গাড়িটি উন্মোচন করেছে। এই ২ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেশে বিকল্প জ্বালানি এবং দেশীয় শক্তির উৎসের ব্যবহার প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এমতাবস্থায়, এই গাড়িটি বাজারে আসার ফলে তা গ্রাহকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

Maruti Suzuki launches India's first flex-fuel car.

ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি কী: উল্লেখ্য যে, ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি হল এমন একটি যান যা পেট্রোল এবং উচ্চ পরিমাণে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি উভয়ের মাধ্যমেই চলতে পারে। ইথানল প্রধানত আখ এবং অন্যান্য কৃষি পণ্য থেকে উৎপাদিত হয়। এটি পেট্রোলের ব্যবহার এবং দূষণ কমায়। মারুতি সুজুকি জানিয়েছে যে এই প্রযুক্তি অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে।

পেট্রোলের খরচ কমতে পারে: ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ইথানল বেসড জ্বালানি পেট্রোলের চেয়ে সস্তা হতে পারে। যদি দেশব্যাপী ইথানলের সহজলভ্যতা বাড়ে এবং সরকার এর আওতা প্রসারিত করে, তবে গাড়ির মালিকরা জ্বালানি খরচের ক্ষেত্রে স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এর পূর্ণ সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন দেশজুড়ে ফ্লেক্স-ফুয়েল স্টেশন ও সাপ্লাই নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: এবার ট্রাক-বিমানের মতো ভাড়ায় পাওয়া যাবে মালগাড়ি! ভারতে শুরু হচ্ছে পরিষেবা

কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতি উপকৃত হবে: এই প্রযুক্তির সুফল শুধু যানবাহন মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং, ইথানলের বর্ধিত উৎপাদন আখ চাষি এবং কৃষির সেক্টরকেও গতি দেবে। এর ফলে কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও এটি সাহায্য করতে পারে। মারুতি সুজুকির MD তথা CEO হিশাশি তাকেউচি বলেছেন যে, ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি কৃষি, প্রযুক্তি এবং ক্লিন এনার্জিকে একত্র করে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে শক্তিশালী করে।

আরও পড়ুন: আর নয় বিলিয়নেয়ার! এবার বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হতে চলেছেন ইলন মাস্ক, তৈরি মেগা পরিকল্পনা

একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেমের প্রয়োজন হবে: কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহন জনপ্রিয় করার জন্য শুধু গাড়ি বাজারে আনলেই যথেষ্ট হবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে জ্বালানির সহজলভ্যতা, গ্রাহক সচেতনতা, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং আরও বেশি মডেলের সমাহার। জানিয়ে রাখি যে, মারুতি সুজুকি ইতিমধ্যেই ইলেকট্রিক যানবাহন থেকে শুরু করে CNG, বায়োগ্যাস, হাইব্রিড এবং হাইড্রোজেন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই আবহে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি লঞ্চ করার মাধ্যমে এই সংস্থাটি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহণের লক্ষ্যে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।