বাংলাহান্ট ডেস্ক: কুয়ালালামপুরে এক আবেগঘন সাক্ষাতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhash Chandra Bose) সহযোদ্ধা এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রবীণ সদস্য জয়রাজ রাজা রাওয়ের সঙ্গে দেখা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার, মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে এই সাক্ষাৎ হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে জয়রাজের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ এবং অবদানের জন্য তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতে থেকেও যাঁরা ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন, এই সাক্ষাৎ তাঁদের স্মৃতিকে নতুন করে উজ্জ্বল করে তুলেছে বলে মনে করছেন ঐতিহাসিকদের একাংশ।
মালয়েশিয়া সফরে নেতাজির (Netaji Subhash Chandra Bose) সহযোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির
শনিবার দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছন মোদী। রবিবার ছিল তাঁর সফরের শেষ দিন। সেই দিনই আজাদ হিন্দ বাহিনীর অন্যতম জীবিত সদস্য জয়রাজ রাজা রাওয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জয়রাজের কাছ থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা, যুদ্ধকালীন স্মৃতি এবং নেতাজির নেতৃত্বে সংগঠনের কাজকর্মের নানা কথা শোনেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই অধ্যায় প্রত্যক্ষভাবে জানা তাঁর কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা বলে জানান মোদী।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অবাক সৌরভ! স্পষ্ট জানালেন…
সাক্ষাতের পরে সমাজমাধ্যমে একাধিক ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, আইএনএ-র এই প্রবীণ যোদ্ধার সঙ্গে দেখা করা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, জয়রাজ রাজা রাও ছিলেন অসাধারণ সাহসী মানুষ, যাঁর জীবনে ত্যাগের পরিমাণ ছিল অপরিসীম। তাঁর জীবনকথা আজকের প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয় বলেও মন্তব্য করেন মোদী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর সকল বীরের কাছে দেশ চিরকাল ঋণী থাকবে।
এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক যোগসূত্রের কথা। ১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কুয়ালালামপুরের সেলাঙ্গর পাডাংয়ে দাঁড়িয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাকা হাজার হাজার ভারতীয়কে স্বাধীনতার আন্দোলনে যুক্ত করেছিল। সেই সময় আজাদ হিন্দ বাহিনীর কার্যকলাপ মালয়েশিয়াসহ এই অঞ্চলে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ৯০ টাকার বেতনে ক্যান্টিনে কাজ! আজ গড়েছেন ৫০০ কোটির সাম্রাজ্য, চমকে দেবে চান্দুভাইয়ের কাহিনি
মালয়েশিয়া সফরের শেষ দিনে প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থানের কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। সফর শেষে মালয়েশিয়া থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে মোদী বলেন, মালয়েশিয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল এবং সভ্যতা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুই দেশকে দৃঢ় বন্ধনে বেঁধে রেখেছে।












