৯০ টাকার বেতনে ক্যান্টিনে কাজ! আজ গড়েছেন ৫০০ কোটির সাম্রাজ্য, চমকে দেবে চান্দুভাইয়ের কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ৯০ টাকা মাসিক বেতনের ক্যান্টিনকর্মী থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা— চান্দুভাই বিরানির জীবনের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) যেন একেবারেই সিনেমার চিত্রনাট্য। আজ বালাজি ওয়েফার্স সাম্রাজ্যের মালিক হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং সুযোগকে কাজে লাগানোর মানসিকতাই তাঁকে দেশের অন্যতম সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে।

চন্দুভাই বিরানির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

১৯৭২ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে চান্দুভাই পরিবারসহ রাজকোট থেকে জামনগর জেলার ধুন্দোরাজিতে চলে আসেন। তাঁর দুই ভাই মেঘজিভাই ও ভিখুভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করতে তাঁদের বাবা পোপট বিরানি অনুর্বর জমি বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা দেন। সেই অর্থ দিয়ে ভাইয়েরা কৃষিকাজ ও ছোট ব্যবসা শুরু করলেও মাত্র দুই বছরের মধ্যেই উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়। স্থায়ী আয় না থাকায় সংসারে আর্থিক অনটন তীব্র হয়ে ওঠে এবং জীবিকার সন্ধানে তাঁদের যে কোনও কাজ গ্রহণ করতে হয়।

আরও পড়ুন: ২৭,৭৭৫ শতাংশের রিটার্ন! ১ লক্ষের বিনিয়োগ হয়েছে ২.৭৯ কোটি, এই স্টক ঘটিয়েছে টাকার বৃষ্টি

ব্যবসা ভেঙে পড়ার পর চান্দুভাই ও তাঁর ভাইরা রাজকোটের আস্ত্রান সিনেমা হলের ক্যান্টিনে কাজ নেন। চান্দুভাইয়ের মাসিক আয় ছিল মাত্র ৯০ টাকা। সেখানে তিনি দারোয়ান, পোস্টার লাগানো, দর্শকদের আসন দেখানো—সব কাজই করতেন। এমনকি কখনও ছেঁড়া আসন মেরামতের বিনিময়ে স্থানীয় খাবার ‘চোরাফাড়ি’ পেতেন। এক সময়ে ৫০ টাকা ভাড়া দিতে না পারায় পরিবারকে রাতারাতি ভাড়া বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল, যদিও পরে তিনি বকেয়া পরিশোধ করেন—যা তাঁর মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে।

ক্যান্টিনে কাজ করার সময়ই তিনি লক্ষ্য করেন, সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে আলুর ওয়েফারের চাহিদা বেশি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে নিজের বাড়ির উঠোনে একটি ছোট শেড তৈরি করেন এবং এক কক্ষের ঘরেই চিপস তৈরির পরীক্ষা শুরু করেন। অল্প সময়েই তাঁর তৈরি ওয়েফার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সিনেমা হলের বাইরেও বিক্রি বাড়তে থাকে। চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ১৯৮৯ সালে রাজকোটের আজি জিআইডিসিতে তিনি প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে বড় উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করেন।

Chandubhai Virani's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: স্কলারশিপের প্রতিশ্রুতি থেকে অর্থের লোভ! কীভাবে মহিলাদের ফাঁদে ফেলতেন এপস্টিন? মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৯৯২ সালে তিন ভাই মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বালাজি ওয়েফার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম রাখা হয় ঘরে থাকা ভগবান হনুমানের মূর্তির নামানুসারে। বর্তমানে সংস্থাটি চারটি বৃহৎ কারখানা পরিচালনা করে এবং বছরে লক্ষ লক্ষ কিলোগ্রাম আলু ও নমকিন প্রক্রিয়াজাত করে। ভারতের প্রায় ৪৩,৮০০ কোটি টাকার স্ন্যাক বাজারে প্রায় ১২ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে বালাজি ওয়েফার্স দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্ন্যাক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। চান্দুভাই বিরানির এই উত্থান প্রমাণ করে, সীমিত সম্পদ থেকেও দৃঢ় সংকল্প থাকলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন সম্ভব।