বাংলা হান্ট ডেস্ক: শেয়ার বাজারে (Share Market) একটি স্মল-ক্যাপ স্টক ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে। শুধু তাই নয়, ওই স্টকটি উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও। মূলত, শিবালিক বাইমেটাল কন্ট্রোলস লিমিটেডের স্টক ১৫ বছরেরও কম সময়ে প্রায় ২৭,৭৭৫ শতাংশের এর শক্তিশালী রিটার্ন প্রদান করেছে। কোম্পানির বর্তমান মার্কেট ক্যাপ প্রায় ২,৭৬১.৮৩ কোটি টাকা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, এক স্টকটি BSE-তে ৬.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে ৪৮৪.৭০ টাকায় বন্ধ হয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, যদি কোনও বিনিয়োগকারী ২০১৩ সালের অগাস্ট মাসে এই স্টকে মাত্র ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন, (তখন এই স্টকের দাম ছিল ১.৭২ টাকা) সেক্ষেত্রে আজ সেই বিনিয়োগ পৌঁছে যেত প্রায় ২.৭৯ কোটি টাকায়। এই দুরন্ত রিটার্ন এই স্টকটিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
শেয়ার বাজারে (Share Market) দুর্ধর্ষ রিটার্ন দিয়েছে এই স্টক:
কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের অনুমান: উল্লেখ্য যে, কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট সম্প্রতি তাদের ২০২৬ অর্থবর্ষে গ্রোথ আউটলুকে সামান্য সংশোধন করেছে। পূর্বে যেখানে রেভিনিউ গ্রোথের অনুমান ১২ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, এখন তা প্রায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে যে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং কিছু ক্ষেত্রে মন্দার আবহে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে, কোম্পানিটি লং-টার্ম গ্রোথের এক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী। কোম্পানিটি অনুমান করছে যে PCBA (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি) থেকে রেভিনিউ ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিক থেকে আসতে শুরু করবে। PCBA ২০২৭ অর্থবর্ষে ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকার অবদান রাখবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, এই ফরোয়ার্ড ইন্টিগ্রেশন কোম্পানির জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, শিবালিক বাইমেটাল কন্ট্রোলস বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের মাল্টিব্যাগার রিটার্ন প্রদান করেছে। যেটি স্মল-ক্যাপের ক্ষেত্রে এই স্টককে একটি শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় নাম করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: বাংলায় নির্বাচনের আগে RSS-BJP-র বড় পদক্ষেপ! দিল্লির ‘মিনি বেঙ্গল’-এ সম্পন্ন হল হিন্দু সম্মেলন
কোম্পানির ব্যবসা: জানিয়ে রাখি যে, শিবালিক বাইমেটাল কন্ট্রোলস লিমিটেড ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোম্পানিটি থার্মোস্ট্যাটিক বাইমেটাল থেকে শুরু করে এবং কয়েল, স্প্রিংস, ট্রাইমেটাল স্ট্রিপ, কারেন্ট সেন্স শান্ট এবং বিভিন্ন ধরণের প্রিসিজন কম্পোনেন্টস তৈরি করে। এই সংস্থা ডিফিউশন বন্ডিং, সোল্ডার রিফ্লো, ইলেকট্রন বিম ওয়েল্ডিং এবং রেজিস্ট্যান্স ওয়েল্ডিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন: রাশিয়া নয়, এবার ভারতের হাতিয়ার হতে চলেছে এই দেশের তেল! বড় পদক্ষেপ মুকেশ আম্বানির
কোম্পানি তৈরি করা এই কম্পোনেন্টগুলি ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি, মেডিক্যাল ডিভাইস, ডিফেন্স, এগ্রিকালচার এবং অটোমোবাইল সেক্টরে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে EV থেকে শুরু করে সার্কিট ব্রেকার, সুইচগিয়ার, এনার্জি মিটার এবং ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমেও এই সংস্থার শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।
সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকির। তাই, বিনিয়োগের আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।












