বাংলাহান্ট ডেস্ক: এপস্টিন ফাইলস (Epstein Files) নিয়ে আলোড়ন গোটা বিশ্বে। এই এপস্টিন ফাইলসের মূল অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টিন কিভাবে সেই নাবালিকাদের নিজের ফাঁদে ফেলত তাঁর ভয়াবহ কাহিনি এবার প্রকাশ্যে এল। আমেরিকার মিশিগানের এক গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের। আইসক্রিম খেতে খেতে স্বাভাবিক আলাপচারিতার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন সেখানে যোগ দেন ৪১ বছর বয়সি জেফ্রি এপস্টিন। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা চললেও, ধীরে ধীরে কিশোরীর প্রশংসা করতে শুরু করেন এপস্টিন এবং তাঁর নামে একটি স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে মার্কিন বিচার দফতরের প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে।
কীভাবে মহিলাদের ফাঁদে ফেলতেন এপস্টিন (Epstein Files)?
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার নথি, প্রায় ২০০০টি ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি ছবি প্রকাশ্যে আনে। ওই নথিতে বহু ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে, যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে কী ভাবে নাবালিকাদের ফাঁদে ফেলা হত, তার বিস্তারিত উল্লেখ আছে। ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশিগানের ওই ক্যাম্পেই জেনকে প্রভাবিত করার প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বাংলায় নির্বাচনের আগে RSS-BJP-র বড় পদক্ষেপ! দিল্লির ‘মিনি বেঙ্গল’-এ সম্পন্ন হল হিন্দু সম্মেলন
পরবর্তী সময়ে ফ্লরিডার পাম বিচে জেনের মায়ের সঙ্গে আলাপ করে নিজের ব্যবহারে তাঁদের আস্থা অর্জন করেন এপস্টিন। এরপর মা ও মেয়েকে তাঁর বাসভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কথাবার্তার বেশিরভাগ সময় জেনের প্রতিভা ও সম্ভাবনার প্রশংসা করে বিভিন্ন সুযোগের প্রলোভন দেওয়া হয়। পরে অর্থের বিনিময়ে তাঁকে ‘মালিশ’-এর কাজে যুক্ত করা হয়। নথি অনুযায়ী, সেই সুযোগের আড়ালেই কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং দীর্ঘ সময় তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মার্কিন বিচার দফতরের অনুমান, হাজারেরও বেশি মহিলা এপস্টিনের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। বিভিন্ন পরিস্থিতি ও প্রলোভন— কখনও অর্থ, কখনও স্কলারশিপ বা গ্ল্যামার জগতের সুযোগ— ব্যবহার করে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে টানতেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, পূর্ব ইউরোপ-সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে মডেলিং বা ক্যারিয়ারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একই কৌশল প্রয়োগ করা হত বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া হ্যাঙার মেরামত করছে পাকিস্তান! সামনে এল রিপোর্ট
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। বিভিন্ন স্কুল ও পরিবারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নাবালিকাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হত। ২০১৯ সালে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর এপস্টিন গ্রেফতার হন এবং সেই বছরের অগস্টে জেলে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে নাবালিকা নির্যাতনের মামলা হয়েছিল। ২০২২ সালে ম্যাক্সওয়েলকে আদালত ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় এবং বর্তমানে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।












