বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একাধিক বিষয়ে কড়াকড়ি চোখে পড়ছে। এবার যেমন জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকা জারি করা হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২০১১ সাল থেকে তথা তৃণমূল আমলে ইস্যু হওয়া প্রত্যেকটি জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করতে হবে। এবার সেই সংক্রান্ত কাজ শুরু করে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)।
জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকা জারি | (Caste Certificate)
সম্প্রতি বসিরহাট, রানাঘাট, ডায়মন্ড হারবার সহ রাজ্যের একাধিক এলাকার বহু জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একেবারে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অবলম্বন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো পূর্বতন সরকারের আমলে ইস্যু হওয়া সকল জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এসওপি তথা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর জারি করেছে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতর।
আরও পড়ুনঃ ১৫ জুন থেকে শুরু, কোথায় বসবে জনকল্যাণ শিবির? কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলবে?
জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোর্টালে এই সংক্রান্ত একটি নয়া মডিউল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল জমানায় ইস্যু হওয়া সকল জাতিগত শংসাপত্রকে ধীরে ধীরে যাচাইয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এখানেই শেষ নয়! এরপর মাঠে নেমেও কাজ চলবে। এই ধাপে তদন্ত করে নথি পরীক্ষা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।
রাজ্যের তরফে জারি করা এসওপি-তে জেলাশাসক, বিডিও, মহকুমাশাসক সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকল নথি যাচাই করে পোর্টালে রিপোর্ট আপলোড করতে হবে তাঁদের। কোনও শংসাপত্র যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয়, সেটি তৎক্ষণাৎ বাতিলের অর্ডার জারি করে সেটিও পোর্টালে আপলোড করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া আরও নির্দেশ, মহকুমা ও ব্লক স্তরে তদন্তকারী আধিকারিকদের নামে আলাদা লগ-ইন তৈরি করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে শংসাপত্র যাচাই করে রিপোর্ট আপলোডের কাজ তাঁরাই করবেন। এছাড়া যাদের কাছ থেকে ভুয়ো শংসাপত্র মিলবে ও সেগুলি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে, সেটির আলাদা তালিকা বানানো হবে। সেই সঙ্গেই ব্লক স্তর থেকে রাজ্য স্তর অবধি জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় যাচাইয়ের কাজ কতখানি এগোল তথা কাজের অগ্রগতি নিয়ে এমআইএস রিপোর্ট বানাতে হবে।
এদিকে সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, তৃণমূল আমল থেকে এখনও অবধি রাজ্যে দেড় কোটির বেশি জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। সংখ্যাটা ১ কোটি ৬৯ লক্ষ। এবার সেগুলিই ফের যাচাইয়ের কাজ শুরু করে দিল রাজ্য সরকার।












