বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মালদহের মোথাবাড়িতে (Mothabari Incident) এসআইআর যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল আদালত। বিচারকদের ঘেরাও করে ব্লক অফিসের ভিতরে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৫২ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এনআইএ (NIA) আদালত। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি থেকে আদালত, সব জায়গাতেই তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছিল।
মোথাবাড়ি কাণ্ডের (Mothabari Incident) সূত্রপাত
SIR-এর আওতায় থাকা ভোটারদের নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তির কাজে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সাত জন বিচারক কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় বিবেচনাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে বিচারকদের রাত পর্যন্ত ব্লক অফিসের ভিতরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
তদন্তভার আপাতত এনআইএ-র (NIA) হাতে
এই ঘটনায় (Mothabari Incident) ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশের পর তদন্তভার দেওয়া হয় এনআইএ-কে (NIA)। তদন্ত শুরুর আগেই রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি এই মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে ছিলেন মোফাক্কেরুল ইসলামও। ঘটনার দিনের ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে একে একে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। কেউ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন, আবার কাউকে গ্রেফতার করে এনআইএ।
তবে তদন্তভার নিয়ে শুরু থেকেই টানাপড়েন তৈরি হয়। এনআইএ অভিযোগ তোলে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং মামলার কাগজপত্র তাদের হাতে তুলে দিতে দেরি করছে পুলিশ। অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপের পর মামলার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এনআইএ-র (NIA) হাতে যায়।
বৃহস্পতিবার এনআইএ (NIA) আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু সেই আবেদনের বিরোধিতা করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ৫২ জন অভিযুক্তকেই আগামী ১৩ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ ভোট শেষ হতেই ফের কড়াকড়ি! ইভিএম-স্ট্রংরুম পাহারায় বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাল কমিশন
এনআইএ-র (NIA) আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, মোথাবাড়ি মামলাকে (Mothabari Incident) ঘিরে মোট ১২টি মামলার শুনানি হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।












