ছুঁয়ে দিলেই ২,৫০০ টাকা জরিমানা! ভারতের এই গ্রামে আজও চালু আছে অদ্ভুত রীতি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতবর্ষের উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রতিটি কোণায় কোণায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছবির মত সুন্দর একাধিক জায়গা। যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিমেষে টেক্কা দিতে পারে দেশ বিদেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র গুলিকেও। ভারতবর্ষে রয়েছে এমনই এক রহস্যময় গ্রাম (Mysterious Indian Village)। যেখানকার মানুষ শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব ভাষাতেই কথা বলেন না, মেনে চলেন তাদের নিজস্ব নিয়ম। তাই ভারতবর্ষের অন্যান্য জায়গায় প্রচলিত আইন সেখানে লাঘু হয়নি আজও। শুধু তাই নয়, এখানে প্রচলিত আছে এক অদ্ভুত নিয়ম। সেই নিয়ম অনুযায়ী এই গ্রামের কোনো জিনিস ছুঁলেই দিতে হয় মোটা টাকার জরিমানা।

ভারতবর্ষের এমনই এক রহস্যময় অথচ অপূর্ব সুন্দর এই পর্যটনকেন্দ্রটি হল হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) একটি বিখ্যাত গ্রাম মালানা (Malana)। এই গ্রামে বহিরাগতদের জন্য বেশ কিছু কঠোর নিয়ম কানুন রয়েছে। এমনকী সবাইকে সতর্ক করার জন্য গ্রামের একাধিক জায়গায় বিজ্ঞাপনের মতো করে টানানো রয়েছে পর্যটকরা এই গ্রামে ঘুরতে আসলেও কেউ যেন এখানকার মন্দির, বাড়িঘর কিংবা দেওয়াল স্পর্শ না করেন। এমনকী তাঁরা কেউ এই গ্রামের মানুষদেরও ছুঁতে পারবেন না।

Malana Village in Himachal Pradesh where touching is forbidden

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে, বহিরাগতরা এখানকার কোনো জিনিস স্পর্শ করলে ১,০০০ টাকা থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। এমনকী গ্রামের কোনো দোকান থেকে জিনিস কেনার সময় দোকানদার সরাসরি পর্যটকদের হাতে জিনিস দেন না। ছোঁয়া এড়াতে ক্রেতা দোকানের বাইরে টাকা রেখে দেন বদলে দোকানদার মাটিতে জিনিস রেখে দেন। তাই হিমাচলপ্রদেশের কুল্লু জেলায় অবস্থিত এই গ্রামে প্রথমবার ঘুরতে গিয়ে, এখানকার নিত্যনতুন নিয়ম কানুন দেখে হতবাক হয়ে যান পর্যটকরাও।

আরও পড়ুনঃ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে কড়াকড়ি! বড় হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ভারতবর্ষের মধ্যে অবস্থিত হলেও মালানা গ্রামের মানুষজন চলেন নিজেদের স্বতন্ত্র রীতিতে। এই গ্রামের রয়েছে নিজস্ব সংবিধান। বহুদিনের পুরনো ঐতিহ্য মেনে গ্রামবাসীরা গ্রাম পরিচালনা করে আসছেন আজও। মালানা গ্রামে নিজস্ব সংসদ রয়েছে যা ছোট এবং বড় দু’দুটি কক্ষ নিয়ে তৈরী। বড় কক্ষে রয়েছেন ১১ জন সদস্য। নিয়ম অনুযায়ী বড় কক্ষের কোনো সদস্য মারা গেলে পুর কক্ষটি পুনর্গঠিত হয়। অন্যদিক ছোট কক্ষটি গ্রামের প্রতিটি পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে তৈরী।

মালানা গ্রামের মানুষের কাছে তাঁদের আরাধ্য দেবতা হলেন জামলু ঋষি। সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে তাঁর সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসাবে ধরা হয়। এই গ্রামের মানুষের রয়েছে অদ্ভুত একটি নিজস্ব ভাষা। যা তাঁদের কাছে কানাসি নামে পরিচিত। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় সারা পৃথিবীর মধ্যে শুধুমাত্র মালানা গ্রামের বাসিন্দারাই এই পবিত্র ভাষায় কথা বলেন।