বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ (Dearness Allowance)-র বকেয়া টাকা এই মাসের মধ্যেই দিতে হবে। সেই কাজ সময়মতো শেষ করতেই নবান্নে এখন জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। এখনও অনেক হিসাবের কাজ বাকি থাকায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন।
বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটাতে কী পদক্ষেপ নবান্নের?
রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে শনি ও রবিবারের ছুটিও বাতিল করেছে অ্যাকাউন্টস বিভাগের। যাতে ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছে যায়, সেই কারণেই সপ্তাহান্তেও অফিস খোলা রেখে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ২৮ মার্চ (শনিবার) এবং ২৯ মার্চ (রবিবার) নবান্নের অ্যাকাউন্টস বিভাগ খোলা থাকবে। ওই দুই দিনও অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মী ও আধিকারিকদের।
সিদ্ধান্তের কারণ?
এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance)-র অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যেই প্রথম কিস্তির টাকা কর্মী ও পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
কী বলছে নবান্ন?
নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বিশাল অঙ্কের হিসাব ও বিল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে এখনও অনেক কাজ বাকি। তাই সময় নষ্ট না করে সপ্তাহান্তেও কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের করা মামলার জেরে বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরে রাজ্য সরকারও পালটা মামলা করে। দীর্ঘ শুনানির পর শীর্ষ আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুনঃ অনুপ্রবেশ থেকে চাকরি, ভোটের আগে বাংলায় শাহের ৩৫ পাতার ‘বিস্ফোরক’ চার্জশিট, চাপে তৃণমূল
এরপরই গত ১৫ মার্চ, বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ধাপে ধাপে ডিএ (Dearness Allowance) দেওয়া হবে এবং চলতি মাসের মধ্যেই প্রথম কিস্তি দেওয়া শুরু হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এখন তৎপর প্রশাসন। ৩১ মার্চের ডেডলাইন মাথায় রেখে নবান্নের অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মীদের ছুটি বাতিল করে টানা কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পৌঁছে দেওয়া যায়।












