বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেল ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটাই ভালো হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে (Nabanna) রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে রাজ্যের রেল প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে রেল অবরোধ নিয়ে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। এবার থেকে প্রতিবাদের নামে ট্রেন আটকে দিলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রেল অবরোধে কড়া পদক্ষেপ নবান্নের (Nabanna)
রাজ্য সরকার আগেই আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে। সেই নীতির আওতায় এবার রেললাইন অবরোধের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ভারতীয় রেল আইন, ১৯৮৯-এর ১৭৪ ধারা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে বাধা দেওয়া অপরাধ। কেউ যদি রেললাইনে বসে বিক্ষোভ দেখায়, রেলের সরঞ্জাম ভাঙচুর করে বা সিগন্যাল ব্যবস্থার ক্ষতি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত জেল, ২ হাজার টাকা জরিমানা বা দুটিই হতে পারে।
কোথায় কতবার অবরোধ হয়েছে?
পূর্ব রেলের বিভিন্ন ডিভিশনে প্রায়ই রেল অবরোধের ঘটনা ঘটে। রেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশনে মোট ২৯টি ট্রেন অবরোধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবরোধ হয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশনে। সেখানে এক বছরে ২২টি ঘটনা ঘটেছে। এর পরে রয়েছে মালদহ ডিভিশন, যেখানে ৪টি অবরোধ হয়েছে। হাওড়া ডিভিশনে ২টি এবং আসানসোল ডিভিশনে ১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া গত অর্থবর্ষে বিভিন্ন রেল ইউনিয়নের ডাকা ২০টি সাধারণ ধর্মঘটের কারণেও যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে বলে রেলের দাবি।
রেল ও রাজ্য একসঙ্গে পদক্ষেপ নেবে
নবান্নের (Nabanna) এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, প্রতিবাদের অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ফলে যদি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, তাহলে তা আর মেনে নেওয়া হবে না। তাই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, অতীতে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনে আগুন লাগানো, রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ ও প্রশাসনকে আইন মেনে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ফুটপাতে হাঁটার অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের, ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী বলল আদালত?
সেই কারণেই এখন রেল ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী দিনে ট্রেন অবরোধের ঘটনা ঘটলে রেল ও রাজ্য যৌথভাবে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে (Nabanna)।













