বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হল। বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে চার আধিকারিক-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে FIR করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের দাবি জানাল রাজ্য সরকার (Nabanna)। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের স্পেশাল কমিশনার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে এই আবেদন জানিয়েছেন। সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই চিঠি ইতিমধ্যেই কমিশনের দিল্লি অফিসে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।
বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ERO ও AERO-র বিরুদ্ধে FIR করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে দুই জেলার জেলাশাসকদের এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়। কিন্তু প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। এ নিয়ে সিইও দপ্তর থেকে দু’বার করে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের রিমাইন্ডার পাঠানো হয় বলেও কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
চার অভিযুক্তর FIR প্রত্যাহারের দাবি নবান্নর (Nabanna)
এর মধ্যেই রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শ নেয়। কমিশন সূত্রের খবর, সিইও দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে সেই আইনি পরামর্শের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ FIR করার মতো গুরুতর নয়। তুলনামূলক ভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বলেই মত রাজ্যের। সেই কারণেই FIR করার নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, SIR পর্বের একেবারে শুরুতেই পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে গরমিলের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় ডেটা এন্ট্রির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুনঃ পিএফ তুলতে আর অপেক্ষা নয়! UPI দিয়েই হাতে আসবে টাকা, নতুন নিয়ম কবে থেকে? জানুন
তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের কাছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে FIR করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই সময়েও নির্দেশ কার্যকর হয়নি। পরে ফের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। এখন সেই নির্দেশই প্রত্যাহারের দাবিতে নবান্নের (Nabanna) তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় কমিশনের দিল্লি দপ্তর, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।












