বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামনেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন। তবে তার আগেই কার্যত নাটকীয় সব কান্ডকারখানা দেখা যাচ্ছে। কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থী হয়ে দাঁড়ানো মিলন প্রধানকে (Nandigram Congress Candidate Milan Pradhan) ১৯ বছর পুরোনো মামলায় জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তাতে দমে যাননি তিনি! জেল থেকেই ভোটে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। তাহলে ভোটের প্রচার? মুশকিল আসনে ভিডিও বার্তায় স্বামীর হয়ে প্রচার করলেন মিলন পত্নী অর্পিতা প্রধান। জানালেন আইন সত্যের পথে চলে, আর সেই সত্যিটা সকলের সামনে আসবেই। এদিন কী কী বললেন তিনি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
জেলে থাকা মিলন প্রধানের হয়ে প্রচারে স্ত্রী অর্পিতা
ভিডিওর শুরুতেই মিলন প্রধানের স্ত্রী বলছেন, ‘নমস্কার আমি অর্পিতা প্রধান। কংগ্রেস নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের স্ত্রী। আমি একজন গৃহবধু। আচ্ছা আজকে কংগ্রেস প্রার্থী হওয়ার পরই ওনাকে সঙ্গে সঙ্গে অ্যারেস্ট করল। কদিন ধরেই তো উনি প্রচার করছে, এবং প্রতি বছর বছর উনি ভোট দিতে যাচ্ছেন। পুজোর সময় থাকছেন। এইতো আমরা তিন মাস আগে ঘুরে এলাম, তখন তো কই অ্যারেস্ট করলো না। তাহলে আজকে কেন অ্যারেস্ট করলো?’
গ্রেফতারির প্রসঙ্গে তিনি জানতে চাইলেন, ‘উনি কংগ্রেস করছেন বলে? কংগ্রেস পার্টি হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে অ্যারেস্ট হলেন? আমার আইনের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আইন সত্যের পথে চলে। আইন কখনো মিথ্যা কথা বলে না। আর আমি সমস্ত নন্দীগ্রামবাসীকে অনুরোধ করব, যে উনারা যেন সত্যের প্রমাণ দেয়। কারণ গোটা পরিবারটা ওনার উপরে আছে। মেয়ের পড়াশোনার ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। কারণ উনি জেলে আছে। এই মিথ্যে প্রচার করছে খুনের কেসে। দয়া করে নন্দীগ্রামবাসীকে অনুরোধ করছি আপনারা পাশে থাকুন’।
আরও পড়ুনঃ ১০০ বা ২০০ টাকা নয়, এবার গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা! ডেঙ্গি রোধে কড়া হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার
লড়াইটা শুধু মিলন প্রধানের নয়, গোটা নন্দীগ্রামের!
ভিডিওতে তিনি আরও জানান, ‘এখন উনি যেহেতু জেলে আছে উনি তো আর প্রচার করতে পারবেন না। না উনি বাড়িতে বাড়িতে যাবেন। তাই দয়া করে ৬ তারিখে আপনারা উনার পাশে থাকুন। আজকের যে লড়াইটা সে লড়াইটা আমার নয়, মিলন প্রধানের নয়, কংগ্রেসের নয়, সমস্ত নন্দীগ্রামের লড়াই। আর আমার বিশ্বাস নন্দীগ্রামের সমস্ত লোক আমাদের পাশে থাকবে। কারণ নন্দীগ্রামের মাটিতে মিলন প্রদান পা দিলেই পাঁচ বছর থেকে শুরু করে সমস্ত বৃদ্ধ লোক সবাই ওনাকে ভালোবাসে, স্নেহ করে, শ্রদ্ধা করে এটা মিথ্যে নয়’।
এরপর ভোটের জন্য আবেদন করে অর্পিতা বলেন, ‘তাই আমি হাত জোড় করছি সমস্ত নন্দীগ্রামবাসীদের, উনারা যেন আমাদের পাশে থাকে। আর উনি জেলেই থাকবে এবং ওখানে থেকেই উনি ভোটে দাঁড়াবেন। সবাই ৬ তারিখে আপনারা ভোট দিয়ে উনাকে সত্যের পরিচয় দিয়ে দিবেন। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখছি 6 অক্টোবর দু নম্বর বাটন হাতচিনে কংগ্রেস পার্টি মিলন প্রধানকে ভোট দিয়ে ভোট দিন’।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ উনি কংগ্রেস পার্টি, কিন্তু তিনি নন্দীগ্রামের ছেলে। আরেকটা অনুরোধ রাখছি যে ১৯ বছর আগে ২০০৭ সালে ওনাকে মিথ্যে কেসে জড়ানো হয়েছে। ঠিক আছে! ওনাকে জড়ানো হয়েছে, ওনার সাথে তো আরো অনেকে জড়িত আছে। এখনকার বিজেপি সরকারের সঙ্গে তো অনেকেই জড়িত। ওরা স্বাধীনভাবে ঘুরছে, আর ওনাকে দড়ি বেঁধে কিভাবে নিয়ে যাচ্ছে! কেন? কেন মিথ্যে ওনাকে জড়ানো হচ্ছে? তাই আমি আজকে সমগ্র নন্দীগ্রামবাসী কাছে অনুরোধ যে দয়া করে আপনারা প্রধানের পাশে থাকুন’।














