বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগামী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণের আগে জোরদার রাজনৈতিক প্রচারের সমাপ্তি ঘটল সোমবার। এই দিন ব্যারাকপুরে নিজের শেষ জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। প্রচার শেষের পরই তিনি সামাজিক মাধ্যমে বঙ্গবাসীর উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি এবং অডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যা দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
শেষ দফার ভোটের আগে বাংলায় খোলা চিঠি ও অডিও বার্তা মোদীর (Narendra Modi)
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষকে “প্রিয় পরিবারবর্গ” বলে সম্বোধন করেন। তিনি লেখেন, গণতন্ত্রের এই উৎসব রাজ্যের মানুষের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে, যেখানে তারা বিজেপির পক্ষে নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন। একইসঙ্গে ২৯ এপ্রিল ভোটদানে রেকর্ড গড়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, এই নির্বাচনী মুহূর্তে তিনি নিজের অনুভূতি সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।
আরও পড়ুন: লাদাখের প্রশাসনিক মানচিত্রে এবার বড় পরিবর্তন! ঘোষণা করা হল নতুন ৫ টি জেলার
খোলা চিঠিতে মোদি বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, গোটা প্রচারপর্ব জুড়ে তিনি যে ভালোবাসা ও আশীর্বাদ পেয়েছেন, তা তাঁকে নতুন শক্তি দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার যুবসমাজ, নারীশক্তি, কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সবাই মিলেই একটি ‘উন্নত বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর মতে, এই ঐক্যবদ্ধ ইচ্ছাশক্তিই ভবিষ্যতের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে আধ্যাত্মিক অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে যেমন কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনায় যুক্ত ছিলেন, তেমনই এই নির্বাচনী প্রচারকালেও তিনি এক ধরনের আধ্যাত্মিক অনুরণন অনুভব করেছেন। বাংলার বিভিন্ন সভা ও রোডশোতে পাওয়া মানুষের বার্তা, ছবি ও চিঠি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুরে নাস্তানাবুদ হয়ে ক্ষত ভুলতে কাবুলে হামলা চালান মুনির? সামনে এল বিস্ফোরক রিপোর্ট
চিঠির শেষে মোদি (Narendra Modi) বাংলার মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বলেন, তরুণরা সমান সুযোগ চায়, নারীরা স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা খোঁজেন এবং সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পথে এগোতে চান। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে এখন আস্থার সময় এসেছে। সেই আস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি বিজেপিকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিবর্তনের এই মুহূর্তে বাংলার মানুষ যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন, তার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে উল্লেখ করেছেন।












