বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোমবার ভারত (India) সফরে এসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বিস্তৃত বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি জানান, দুই নেতার মধ্যে সীমিত এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, যা ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
ভারতে (India) UAE-র প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
বৈঠকের পর দুই নেতার উপস্থিতিতে একাধিক চুক্তি ও অভিপ্রায় পত্র বিনিময় করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদলে আবুধাবি ও দুবাইয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন মাকতুম। আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একটি ইচ্ছাপত্র স্বাক্ষর হয়, যার মাধ্যমে যৌথ মহড়া, সামরিক নেতৃত্বের নিয়মিত সংলাপ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের পথে এগোনোর বার্তা দেওয়া হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং অ্যাডনক গ্যাসের মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি সরবরাহ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে, যার আওতায় ২০২৮ সাল থেকে বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এই চুক্তির ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল। পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে, যেখানে বৃহৎ পারমাণবিক চুল্লি ও ক্ষুদ্র মডিউলার চুল্লি উন্নয়ন ও স্থাপনার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার স্থাপন, ডেটা সেন্টার পরিকাঠামোয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ এবং ‘ডিজিটাল দূতাবাস’ ধারণা নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান স্পষ্ট করে দুই দেশ সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদসহ সব ধরনের সন্ত্রাসের নিন্দা জানিয়েছে এবং অপরাধী ও অর্থদাতাদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আরও পড়ুন: মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই বিরাট নজির! কলকাতা জাদুঘরের সর্বকনিষ্ঠ ডিরেক্টর হলেন সায়ন ভট্টাচার্য
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২২ সালের ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়। দুই দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। গুজরাটের ধোলেরায় বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, মহাকাশ সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন ভারতীয়ের বসবাসকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতে আবুধাবিতে ‘হাউস অফ ইন্ডিয়া’ স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।












