বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ইরানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত। এই সংঘাতের জেরে তেল-গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ভারতেও। সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই বুধবার জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। লক্ষ্য একটাই, যুদ্ধের মাঝেও দেশের মানুষ যেন কোনও সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করা।
বুধবার ক্যাবিনেট বৈঠকে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)
ইরানকে ঘিরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ায় ভারতের তেল ও গ্যাস আমদানিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার ক্যাবিনেট কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেখানে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, এলপিজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ কোনওভাবেই বন্ধ হওয়া চলবে না।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বাড়ছে। অনেকেই আগেভাগে গ্যাস বুক করতে শুরু করেছেন। ফলে একধরনের প্যানিক বুকিংয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও ২৫ দিনের আগে নতুন করে গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারও ঠিকমতো মিলছে না বলে অভিযোগ উঠছে। তবে কেন্দ্রের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও নজর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) নির্দেশ দিয়েছেন, তেল ও গ্যাস আমদানির ক্ষেত্র আরও বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে নতুন দেশ থেকেও জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এলপিজি ও এলএনজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বলা হয়েছে।
কালোবাজারি রুখতে কড়া বার্তা
এছাড়া জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ বাড়তি দাম না নেয় বা মজুতদারি না করে, সে জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে প্রয়োজনীয় কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

আরও পড়ুনঃ বালিগঞ্জে ED-র বড় অভিযান! ‘সান এন্টারপ্রাইজেস’ থেকে কোটি টাকার বেশি নগদ উদ্ধার
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এখনও হরমুজ প্রণালীর কাছে প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। কিছু খালি জাহাজে এলপিজি বোঝাই করা হচ্ছে। সেগুলি দ্রুত দেশে পৌঁছলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার আন্তর্জাতিক স্তরেও চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে জাহাজগুলি নিরাপদে ভারতে ফিরতে পারে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।












