নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ভারতের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়লেন মোদী! বিশ্বমঞ্চে শুভেচ্ছার বন্যা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার রেকর্ড গড়ে তিনি টপকে গেলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। ১০ জুন, বুধবার নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড ভেঙে ৪,৩৯৯ দিনে পৌঁছলেন মোদি। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকে টানা তিন দফায় দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। এই নজির গড়ার পর দেশজুড়ে যেমন রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, তেমনই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁর উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা পৌঁছতে শুরু করেছে।

ভারতের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়লেন মোদী (Narendra Modi)!

স্বাধীনতার পর ১৯৫১-৫২ সালে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু। এরপর ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি টানা দেশের শাসনভার সামলান। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ৪,৩৯৮ দিনের একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অক্ষত ছিল। সেই রেকর্ডই এবার ভেঙে দিলেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ৪,০৭৭ দিনের একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও অতিক্রম করেছিলেন। যদিও মোট কার্যকালের বিচারে এখনও শীর্ষে রয়েছেন নেহরু। তিনি প্রায় ১৬ বছর ২৮৬ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী, যার কার্যকাল ১৫ বছর ৩৫০ দিন। তবে একটানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মোদির এই নতুন রেকর্ড নিঃসন্দেহে ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

আরও পড়ুন: আত্মনির্ভরতার নয়া নজির গড়ল ভারত! সফলভাবে আকাশে উড়ল প্রথম ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ C295 বিমান

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক এক বার্তায় উল্লেখ করেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ বারবার তাঁর নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, এই রেকর্ড তারই প্রতিফলন। পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে ভিডিও বার্তায় মোদিকে একজন আদর্শ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের সীমা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ বিসেসারও ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে মোদির ভূমিকাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্বে থাকার ফলে বিশ্ব রাজনীতিতেও মোদির গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোদি সরকারের শাসনকালে দেশের উন্নয়ন মডেলও নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে দাবি করা হয়। নেহরুর সময় সদ্য স্বাধীন দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব মূলত সরকারের কাঁধে ছিল। কিন্তু মোদি সরকারের মতে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের দেশে উন্নয়নকে সফল করতে হলে সাধারণ মানুষকেও অংশীদার হতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই স্বচ্ছ ভারত অভিযান, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, জল সংরক্ষণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ, টিকাকরণ কর্মসূচি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে জনআন্দোলনের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, উন্নয়নকে কেবল প্রশাসনিক প্রকল্প হিসেবে না দেখে সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

Narendra Modi sets the record for being India's longest-serving PM.

আরও পড়ুন: আধার কার্ডে ভুল সংশোধন করবেন কীভাবে? রইল অনলাইন ও অফলাইনে ঠিক করার পদ্ধতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই রেকর্ড কেবল একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়, বরং ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতারও প্রতীক। টানা তিনবার নির্বাচনে জয়লাভ করে দেশের নেতৃত্বে থাকা এবং একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করা নিঃসন্দেহে বিরল কৃতিত্ব। আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর সরকার কীভাবে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের। তবে আপাতত নেহরুর ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল অক্ষরে লিখে রাখলেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।