বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই গরম হচ্ছে। একদিকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র ঘোষণা করেছে বিজেপি, অন্যদিকে সেই আবহেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। চিঠিতে তিনি উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা, অবৈধ অভিবাসন থেকে শুরু করে বাংলার ভবিষ্যৎ সবকিছু নিয়েই সরাসরি বার্তা দিয়েছেন।
ভোটের আগে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করবে বিজেপি। দল সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহেই এই কর্মসূচির সূচনা হতে পারে। সেই সূচনা পর্বে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah( বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin), প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh), মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফরণবিশ (Devendra Fadnavis), মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরী (Nitin Gadkari) এবং স্মৃতি ইরানী (Smriti Irani)-র মতো একাধিক হেভিওয়েট নেতা।
বাংলার নাগরিকদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)
এই রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বাংলার নাগরিকদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। হিন্দি ও বাংলা দু’টি ভাষাতেই লেখা ওই চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘সোনার বাংলার’ স্বপ্ন দেখা প্রত্যেক মানুষ আজ কষ্ট পাচ্ছেন। আগামী কয়েক মাসে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং জানান, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে জনগণের হাতে।
কী লিখেছেন মোদি?
চিঠির শুরুতেই দেবী কালীর বন্দনা করে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) লেখেন, গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার জনকল্যাণ এবং সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কৃষক, যুবক, মহিলা ও দরিদ্রদের জন্য চালু করা বিভিন্ন প্রকল্প ইতিবাচক ফল দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাবের কথা উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, তবুও কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, জন ধন যোজনার আওতায় বহু মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্পের জন্য ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে। আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্রদের আবাসন এবং মহিলাদের সুরক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। তাঁর দাবি, বাংলার মা ও বোনেরা নিরাপদ নন। অবৈধ অভিবাসন এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসা রাজ্যকে কলঙ্কিত করছে। সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি, হিংসা ও অরাজকতার কারণে রাজ্য পিছিয়ে পড়ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ভুয়ো ভোটারদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে সুশাসনের পথে হাঁটাই এখন প্রয়োজন। পরিবর্তন যে অপরিহার্য, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন তিনি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়নে দেশের শীর্ষে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলিতে সেই অবস্থান নষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি ও তোষণের রাজনীতি রাজ্যের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলেও তাঁর অভিযোগ। যুবসমাজের অন্য রাজ্যে পাড়ি দেওয়া এবং বিনিয়োগের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
চিঠিতে মোদি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু (Subhas Chandra Bose) এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) কথা উল্লেখ করে বলেন, মহান ব্যক্তিত্বদের আশীর্বাদধন্য এই বাংলার নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির (Syama Prasad Mukherjee) কথাও স্মরণ করেন তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ ভুল প্রশ্নে কারা কত টাকা ফেরত পেল? কমিশনের কাছে রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট
চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ২০২৬ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করার কথা জানান এবং রাজ্যবাসীকে ‘উন্নত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক মহলে এই চিঠিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আবহে, এই সরাসরি বার্তা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্ক ও রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।












