সীমান্ত বিরোধে চিন-ব্রিটেনকে জড়াতে চায় নেপাল! হুঁশিয়ারি দিয়ে কী জানাল দিল্লি?

Published on:

Published on:

New diplomatic tensions over India-Nepal border dispute.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত-নেপাল (India-Nepal) সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সীমান্ত সমস্যার সমাধানে চিন ও ব্রিটেনকে আলোচনায় যুক্ত করার বিষয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারত-নেপাল সীমান্ত সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার প্রশ্নই ওঠে না। নেপালের সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে, তখনই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে।

ভারত-নেপাল (India-Nepal) সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন:

নেপালের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের ঐতিহাসিক শিকড় ঔপনিবেশিক আমলে প্রোথিত। তাঁর মতে, সেই ইতিহাসের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকায় সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনায় লন্ডনেরও একটি ভূমিকা থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই ইস্যুতে কাঠমান্ডু শুধু নয়াদিল্লির সঙ্গেই নয়, বেইজিং এবং লন্ডনের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখছে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নেপালের এই অবস্থান সীমান্ত প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের কৌশলের অংশ হতে পারে।

আরও পড়ুন: বকেয়া পেতে কী করতে হবে? DA নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার

এই মন্তব্যের পরই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জসওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্ত অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য ইতিমধ্যেই কার্যকর দ্বিপাক্ষিক কাঠামো বিদ্যমান। তিনি বলেন, “ভারত ও নেপালের মধ্যে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্ত অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের জন্য যথেষ্ট। সংশ্লিষ্ট সকলেরই জানা উচিত যে, ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই।” একই সঙ্গে তিনি জানান, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পরে নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাখ্যা ভারত নোট করেছে। তবে নয়াদিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধান কেবলমাত্র দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত বিরোধ মূলত কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। নেপালের দাবি, এই এলাকাগুলি তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলি উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ এবং বহুদিন ধরেই ভারতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বিরোধকে ঘিরে গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ সীমান্ত ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ও নির্ধারিত। মাত্র অল্প কয়েকটি অংশ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

New diplomatic tensions over India-Nepal border dispute.

আরও পড়ুন: নিজের দফতরে ডাকলেন না, সরাসরি ডিজিপির ঘরে শুভেন্দু! নবান্নে এই বৈঠক ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

রনধীর জসওয়াল আরও জানিয়েছেন, গণ্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে কিছু এলাকায় সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনুপ্রবেশ, ভূমি দখল এবং ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এ বেআইনি প্রবেশের অভিযোগ নিয়েও দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি মন্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, শুধু ভারতের বিরুদ্ধেই নয়, নেপালের বিরুদ্ধেও কিছু ক্ষেত্রে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ বা দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য নেপালের (India-Nepal) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই ইস্যুতে কোনও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সুযোগ নেই এবং সমাধানের পথ কেবলমাত্র দ্বিপাক্ষিক সংলাপেই নিহিত।