ভোটের আগে বড় প্রশ্ন! শুভেন্দুর ভবিষ্যদ্বাণী কি মিলতে চলেছে বাংলায়?

Updated on:

Updated on:

New speculation in Bengal about President's rule before Election
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (Election)। খুব শিগগিরই ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই আচমকা রাজ্যপালের ইস্তফা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ রাজ্যের বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর খুব বেশি সময় নেই। তাই সময়মতো নির্বাচন করে নতুন সরকার গঠন করতে হলে খুব দ্রুত ভোট ঘোষণা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

নির্বাচনের (Election) আগে রাজ্যপালের ইস্তাফায় নতুন জল্পনা

আগামী ৭ মে শেষ হয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ। অর্থাৎ হাতে প্রায় দু’মাস সময় আছে। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন (Election) সংক্রান্ত সব কাজ শেষ করতে হবে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বড় খবর সামনে আসে। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস আচমকাই পদত্যাগ করেন। সূত্রের খবর, তাঁকে হঠাৎ করেই দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তারপরই তিনি ইস্তফা দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হচ্ছেন আরএন রবি। এই খবর সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আবার সামনে এসেছে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রসঙ্গ। ঠিক এক বছর আগে মুর্শিদাবাদে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। তখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে নির্বাচন করানো উচিত। তাঁর মতে, শুধু নির্বাচন কমিশনের পক্ষে পরিস্থিতি সামলে ভোট (Election) করানো কঠিন। রাষ্ট্রপতি শাসন থাকলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন।

এবার সেই আলোচনা আবার বাড়ছে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যাকে কেন্দ্র করে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেও এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ নামের যাচাই বাকি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। হিসেব বলছে, অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ করা হলেও বাকি ৫৪ লক্ষ নথি যাচাই করতে অনেক সময় লাগবে। তাই প্রশ্ন উঠছে, সব যাচাই শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ে ভোট করানো সম্ভব হবে কি না। কারণ ৭ মে এই সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি তার মধ্যে নির্বাচন (Election) না হয়, তাহলে সাংবিধানিক সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও অনেকেই মনে করছেন। সেই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা ছাড়া অন্য কোনও পথ থাকবে কি না, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।

রাজ্যপাল বদলের ঘটনাও এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকের মতে, এমন পরিস্থিতিতে এমন একজন রাজ্যপাল দরকার যাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই কারণেই নতুন নিয়োগকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ SIR ইস্যুতে বড় লড়াই! ধর্মতলায় ধর্না মঞ্চে মমতা, কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

এদিকে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এভাবে পরিস্থিতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক নয়। কমিশনকে নিরপেক্ষ সংস্থা বলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কেয়ারটেকার সরকার অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারে।” সব মিলিয়ে ভোট (Election) ঘোষণার আগেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা বাড়তে শুরু করেছে।