বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাটের আহমেদাবাদের এক তরুণী উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প (Success Story) এখন বহু মানুষের অনুপ্রেরণা। বি.টেক ডিগ্রিধারী নিষ্ঠা চৌহান বাজরাকে আধুনিক ফাস্ট ফুডে রূপান্তরিত করে গড়ে তুলেছেন একটি সফল ব্যবসা। ২০২১ সালে ‘আরম্ভ ক্যাফে’ নামে তাঁর স্টার্টআপের সূচনা, আর মাত্র ৮০ হাজার টাকার পুঁজি দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার আয় করছে।
নিষ্ঠা চৌহানের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
শিক্ষিত ও বৈজ্ঞানিক পরিবেশেই নিষ্ঠার ছোটবেলা অতিবাহিত হয়। তাঁর বাবা একজন ISRO-র অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী এবং মা BSNL-এ কর্মরত ছিলেন। এলডি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনসে বি.টেক সম্পন্ন করে তিনি প্রথমে মহাকাশ ও 5G প্রযুক্তি সংস্থায় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে শহুরে খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টিকর বাজরার অনুপস্থিতি তাঁকে নতুন পথ ভাবতে বাধ্য করে।
আরও পড়ুন: মাসের শুরুতেই লাফিয়ে বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম! ভাড়া বাড়বে উড়ানের টিকিটের?
এই উপলব্ধি থেকেই ‘আরম্ভ ক্যাফে’-র যাত্রা শুরু। অল্প পুঁজিতে একটি ছোট জায়গায় মাত্র পাঁচটি পদ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। শহরের মানুষ যেখানে সেদ্ধ বা স্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলেন, সেখানে নিষ্ঠা অভিনব কৌশলে মিলেটকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তাঁর মেন্যুতে যুক্ত হয় ‘রাগি বড়া পাও’, ‘মিলেট মোমো’ এবং ‘মিক্সড মিলেট হ্যান্ডভো’-র মতো আকর্ষণীয় পদ। বোন ও মায়ের সঙ্গে দীর্ঘ ছ’সাত মাস গবেষণার পর এমন স্বাদ তৈরি হয় যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। স্থায়ী চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্তে প্রথমে পরিবারের আপত্তি ছিল। পাশাপাশি আহমেদাবাদের ‘আনলিমিটেড মিলস’ সংস্কৃতির মধ্যে মান বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। প্রথম বছরে দৈনিক ১৫-২০ জন গ্রাহক থাকলেও পরের বছরে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ক্যাফের বার্ষিক টার্নওভার পৌঁছে যায় ১ কোটিতে।

আরও পড়ুন: নতুন অর্থবর্ষের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা! এই সংস্থায় কাজ হারালেন ভারতের ১২,০০০ কর্মী
নিষ্ঠার উদ্যোগ শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যেই (Success Story) সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি পরিবেশবান্ধব মডেলও। তাঁর ক্যাফে সম্পূর্ণ প্লাস্টিক ও এয়ার কন্ডিশনার মুক্ত, যার ফলে কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও কর্মশালার মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করছেন। ভবিষ্যতে ভারতীয় মিলেটকে আন্তর্জাতিক স্তরে ‘সুপারফুড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন নিষ্ঠা চৌহান।












