বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS Hospital) কর্মরত নার্স রূপালি বর্মনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের শৌচাগার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। তবে ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।
এনআরএস হাসপাতালের (NRS Hospital) নার্সের রহস্যমৃত্যু
প্রায় দু’বছর আগে অগাস্ট মাসে আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল। আবারও অগাস্ট মাসেই এক সরকারি হাসপাতালের (NRS Hospital) কর্মরত নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকদের অনুমান, অতিরিক্ত মাত্রায় কোনও ওষুধ শরীরে প্রবেশ করার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অক্সিজেনের অভাবের কারণে রূপালির চোখের সাদা অংশ, নখ এবং জিভের কিছু অংশ নীলচে হয়ে গিয়েছিল। শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে সেই পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তে আরও কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদি এটি আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে দুই কনুইয়ে সূচ ফোটানোর দাগ কীভাবে এল? পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে অচৈতন্য করার ওষুধ ফেন্টানিল এবং মিডাজোলামের ভায়াল উদ্ধার হওয়ায় রহস্য আরও বেড়েছে। এই ঘটনার তদন্তে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে গাইনি সিবি বিল্ডিংয়ের অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ডের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১২ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৩ অগাস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ফুটেজ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল (NRS Hospital) সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ-তে ডিউটিতে ছিলেন রূপালি বর্মন। কিছু সময় পরে সহকর্মীরা তাঁকে নার্সিং স্টেশনে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন।

আরও পড়ুনঃ আয়ুষ্মান ভারত চালুর পরেও স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হবে না! কতদিন চলবে? জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পরে অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ড এবং অ্যান্টিনেটাল অবজারভেশন রুমের পাশের একটি শৌচাগারের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে হাসপাতালে (NRS Hospital) নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন তদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্টের অপেক্ষায় সবাই।













