বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) পর ফের অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব এনে নতুন করে বাণিজ্যিক উত্তেজনার আবহ তৈরি করল আমেরিকা। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় ভারত-সহ মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। আমেরিকার দাবি, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার আবহে এমন সিদ্ধান্ত ভারতের রপ্তানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভারতের (India) ওপর ফের ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব আমেরিকার!
মার্কিন প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় ভারতের (India) পাশাপাশি রয়েছে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যেসব দেশ ইতিমধ্যেই এই ধরনের পণ্যের উপর পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, তাদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে যেসব দেশ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এই প্রস্তাবের সময় নির্বাচন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বর্তমানে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফার বৈঠকে শুল্ক কমানো, বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক বাধা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব সামনে আসায় আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ আলোচনায় নতুন চাপের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
তবে আমেরিকার এই প্রস্তাবকে ঘিরে এখনও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারত (India)। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ৩০১ ধারা সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারত স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে এবং প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগে একাধিক স্তরের আলোচনা ও পর্যালোচনা বাকি আছে। ফলে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্যিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই আইনের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন বিদেশি বাণিজ্যিক কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে এবং প্রয়োজন মনে করলে প্রতিশোধমূলক শুল্ক বা অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চিনের বিরুদ্ধে শুল্কযুদ্ধ শুরু করতেও এই ধারাই ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে নতুন প্রস্তাবকে অনেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সংঘাতের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: ফেডারেশনের কাঠামো ভেঙে ‘কনফেডারেশন’ এর উত্থান, টলিউডের ‘সাফাই’এ SIR এর ঘোষণা পাপিয়ার
এদিকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ধারা ২৩২-এর আওতায় ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত কিছু পণ্যকে নতুন শুল্ক কাঠামোর বাইরে রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভারত (India) আশা করছে, চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশ এমন একটি সমাধানে পৌঁছবে যা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তবে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাই আগামী দিনে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং দিল্লির কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপরই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের।













