বাংলা হান্ট ডেস্ক: বসন্ত পঞ্চমী অর্থাৎ (Basanta Panchami) অর্থাৎ বাঙালির জীবনে সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja) একটি বিশেষ দিন। এই দিনটিকে শ্রী পঞ্চমীও বলা হয়ে থাকে। বাগদেবীর আরাধনায় এই দিন সবাই মেতে থাকে। বলা হয়ে থাকে এই দিনই মা সরস্বতীর আগমন ঘটেছিল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে এই দিনের মাহাত্ম্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আজ সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) দিন জেনে নিন মায়ের আবির্ভাবের কাহিনি?
২০২৬ সালের সরস্বতী পুজো পালিত হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি। দেবীর পুজোয় হলুদ ফুল, হলুদ পোশাক, হলুদ ভোগ, হলুদ মিষ্টি, বিশেষ তাৎপর্য রাখে। মা সরস্বতীকে বাগেশ্বরীও বলা হয়ে থাকে।আসুন জেনে নিই কিভাবে দেবী সরস্বতীর আবির্ভাব ঘটেছিল।
দেবী ভগবতপুরাণ অনুসারে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর মিলে মানব জীবন সৃষ্টি করেন। সৃষ্টির সূচনা লগ্নে প্রাণের স্পন্দন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল কিন্তু বাকশক্তি ছিল না মনুষ্য জাতির। সেই সময় বিষ্ণু ও মহেশের সম্মতি নিয়ে ব্রম্মা তার কমন্ডল থেকে পবিত্র জল ছিটিয়ে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকেন। তখনই আবির্ভাব ঘটে এক দেবী শক্তির, যিনি মা সরস্বতী। মায়ের এক হাতে বীণা অন্য হাতে পুস্তক,0তৃতীয় হাতে তার জপমালা এবং চতুর্থ হাত রয়েছে আশীর্বাদ মুদ্রায়।
ব্রহ্মার অনুরোধে মা বীণায় সুর উত্থাপন করেন। সেই ধ্বনি ছড়িয়ে পড়তে থাকে দিকে দিকে, মা সরস্বতীর বীণার প্রথম ধ্বনি ছিল সা, যা সংগীতের প্রথম স্বর হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্রম্মা, মা সরস্বতীকে বাগেশ্বরী নামে অভিহিত করেন। মা সরস্বতীর কিন্তু অপর নাম বীণাপাণিও। দেবী সরস্বতীর কৃপায় বিদ্যা বুদ্ধি ও জ্ঞান লাভ হয়। অনেকেই আজকের দিনে বাড়িতে শিশুদের বিদ্যা আরম্ভ করেন।
সরস্বতী শব্দের মধ্যে রয়েছে সরস কথাটি। সরস শব্দের অর্থ হলো জল। বসন্ত পঞ্চমীতে মায়ের পুজো বিধি মেনে হয়। এটি শুক্লপক্ষের তিথি। কুল, দোয়াত এগুলো মার পুজোর অপরিহার্য অঙ্গ। আজকের দিনে স্কুল কলেজ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেই সঙ্গে বাঙালির ঘরে ঘরে মা সরস্বতীর আরাধনা হয়। বাগ দেবীর আরাধনায় পলাশ ফুল অন্যতম। খাগের কলম দেবীর পুজোয় অপরিহার্য। তিনি ব্রহ্মার মানস কন্যা রূপে পরিচিত। সারদা নামেও তিনি পূজিত হন।
আরও পড়ুন: SIR শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েও জীবন যুদ্ধের লড়াই, বৃদ্ধার হাতে ভিক্ষার বাটি














