বাড়ানো হবে তেল উৎপাদন! ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে বড় ঘোষণা OPEC+-এর

Published on:

Published on:

OPEC+ Announces Increase in Oil Production.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। এই আবহে এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা হিয়েছে গিয়েছে যে, এবার OPEC+ দেশগুলি তেল উৎপাদন (Oil Production) বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির এই গ্রুপটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। OPEC+-এর ভলান্টারি এইট (V8) গ্রুপ এক্ষেত্রে সম্মতি জানিয়েছে।জানিয়ে রাখি যে, OPEC+এর ভলান্টারি এইট গ্রুপের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, কুয়েত, ওমান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি। মূলত, আগামী এপ্রিল থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২.০৬ লক্ষ ব্যারেল (২,০৬,০০০ bpd) তেল উৎপাদন বাড়ানো হবে।

তেল উৎপাদন (Oil Production) বৃদ্ধির ঘোষণা OPEC+-এর:

যদিও, এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বিবৃতিতে ইরান সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে, স্থিতিশীল বিশ্ব অর্থনীতি এবং শক্তিশালী বাজার চাহিদাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, পূর্বে, বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন মাত্র ১,৩৭,০০০ ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

OPEC+ Announces Increase in Oil Production.

তবুও, তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়ে গেছে: সমগ্র বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিয়ন্স জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের কারণে তেলের দামের সম্ভাব্য বৃদ্ধি রোধ করার জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, হরমুজ প্রণালী; যেখান থেকে বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল সরবরাহের প্রায় এক চতুর্থাংশ যায়। রিপোর্ট অনুসারে, ইরানের রিভলিউশনারি গার্ড জাহাজগুলিকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এদিকে, ইতিমধ্যেই ইরানের সরকারি টিভি দাবি করেছে যে জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি তেল ট্যাঙ্কারকে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং সেটি ডুবতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হলে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাব ন্যূনতম হবে। কারণ এই সময়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল সরবরাহ এবং পরিবহণ।

আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে লাফিয়ে বাড়ল GST কালেকশন! সরকারের কোষাগারে এল কত লক্ষ কোটি টাকা?

আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বাজার: জানিয়ে রাখি যে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয় থেকে শুরু করে বিমা কোম্পানিগুলির দ্বারা জাহাজের চুক্তি বাতিল এবং ইলেকট্রনিক সিস্টেমে ব্যাঘাতের কারণে জাহাজ কোম্পানিগুলি এই পথ এড়িয়ে চলেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন যে, কয়েক দিনের জন্য হলেও প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হলে তা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে। অনুমান অনুসারে, যুদ্ধের আবহে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭২ ডলার থেকে বেড়ে ১২০-১৫০ ডলারে পৌঁছতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে লাফিয়ে বাড়বে অপরিশোধিত তেলের দাম! ভারতের ব্যাকআপ প্ল্যান কী?

OPEC+-এর জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ: তেলের দাম বৃদ্ধি OPEC+ দেশগুলির জন্য উপকারী বলে মনে হলেও এটি আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রাজিলের মতো অন্যান্য তেল উৎপাদনকারীদের জন্য আরও বেশি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, OPEC+ এর জন্য প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০৯০ ডলার অনুকূল বলে মনে করা হয়, যেখানে প্রায় ৭০ ডলারকে আদর্শ স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে বর্তমানে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলি শুধুমাত্র প্রয়োজনে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে পারে।