ব্যাহত হয়েছে উৎপাদন! ঘনিয়ে আসছে তেলের সঙ্কট? কী জানাল OPEC অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি?

Published on:

Published on:

OPEC expresses concern over the fuel crisis.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-আমেরিকার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি (Fuel Crisis) পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক তেলক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেল উৎপাদনে। এই পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদনকে আবার যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অনেকটাই সময় লাগবে বলেই জানিয়েছে ওপেকভুক্ত দেশগুলি। রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তারা স্পষ্ট করে দেয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামত এবং উৎপাদন স্বাভাবিক করতে বিপুল অর্থ ও সময় প্রয়োজন।

জ্বালানি সঙ্কট (Fuel Crisis) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ OPEC অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির:

ইরান-আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে ইরান, ইরাক এবং সৌদি আরবের তেল ভাণ্ডারে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে কোথা থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি আসবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে ওপেকভুক্ত দেশগুলি বিকল্প সরবরাহ পথ খোঁজার চেষ্টা চালালেও তা সহজ নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: সিকিমে ভয়াবহ ধসে লাচেনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন! আটকে ৮০০ পর্যটক

তবে সংকট সামাল দিতে কিছুটা হলেও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওপেক। সীমিত পরিকাঠামো ব্যবহার করেই উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উপর থেকে কিছু ক্ষেত্রে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায়, তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে ভারত এই সুবিধা কতটা পাবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে, ভারতের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে অষ্টম এলপিজিবাহী জাহাজ, যাতে প্রায় ১৫ হাজার ৪০০ টন গ্যাস রয়েছে। তবে এখনও ওই প্রণালীতে ১৬টি জাহাজ আটকে রয়েছে, যার মধ্যে ‘জগ বিক্রম’ নামের একটি এলপিজি জাহাজও আছে। এই পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করলেও, কেন্দ্রের দাবি, আপাতত রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে কোনও বড় ঘাটতি নেই।

OPEC expresses concern over the Fuel Crisis.

আরও পড়ুন: সপ্তাহের শুরুতেই মেট্রো ভোগান্তি ! আধ ঘন্টার বেশি সময় ধরে বন্ধ পরিষেবা

সরকারের তরফ থেকে আরও জানা গিয়েছে, বাণিজ্যিক এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি গত এক মাসে প্রায় ৮ লক্ষ নতুন পাইপ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বিকল্প জ্বালানির (Fuel Crisis) ব্যবহার বাড়াতে সাহায্য করছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৬ হাজার গ্রাহক স্বেচ্ছায় এলপিজি সংযোগ ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবুও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতি নির্ধারিত হবে, ফলে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না।