বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi) ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান ও প্রস্তুতি চলছে। ‘অপারেশন কবচ ১২.০’ নামক একটি বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিল্লি পুলিশ ৫৮৬ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও ১৪২৯ জনকে হেফাজতে নিয়েছে। এই বৃহৎ আকারের অভিযানটি ২৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত হয়, যেখানে ১৪৭টি পৃথক পুলিশ দল রাজধানীর ৩২৫টি স্পটে একযোগে তল্লাশি চালায়। পুলিশ সূত্র জানায়, একাধিক কুখ্যাত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা ছাড়াও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে দিল্লিতে (New Delhi) চলল ‘অপারেশন কবচ’
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দিল্লি ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, ২৬শে জানুয়ারি রাজধানীর নিরাপত্তায় ৩০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়াও ৭০টির বেশি কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে, যা মোট নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩৮,০০০-এ নিয়ে যাবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সীমান্তবর্তী এলাকা, জনসমাগমের জায়গা এবং কুচকাওয়াজ রুটে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত-EU সম্পর্কে নতুন অধ্যায়! প্রজাতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথে প্রধান অতিথি হিসেবে কারা থাকছেন?
এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘স্মার্ট গ্লাস’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিশেষ চশমার সাহায্যে সন্দেহভাজন ও পরিচিত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে। সাধারণতন্ত্র দিবসের দায়িত্বে থাকা বহু নিরাপত্তাকর্মী এই স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, উন্নত প্রযুক্তির সার্বক্ষণিক নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা রাজধানী চব্বিশ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
দিল্লি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন যে, সাধারণতন্ত্র দিবসের মতো অনুষ্ঠানের আগে কোনও ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হবে না। সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি উৎখাত করাই ‘অপারেশন কবচ ১২.০’ অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের তল্লাশি ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: এই ডিলেই হতে চলেছে বাজিমাত! ভারতে লাফিয়ে কমবে বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম, EV-র বাজারে উঠবে ঝড়
সামগ্রিকভাবে, একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন করাই কর্তৃপক্ষের একমাত্র লক্ষ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এই বছরের অনুষ্ঠানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, ফলে নিরাপত্তা বিষয়ক প্রস্তুতিও হয়েছে আরও কঠোর ও বহুমাত্রিক। পুলিশের এই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জাগিয়েছে এবং একটি সফল কুচকাওয়াজ আয়োজনের পথ পরিষ্কার করেছে।












