বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগামী ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026) উদযাপন একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। এবার নয়াদিল্লির কর্তব্যপথের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা। এটি প্রথমবারের মতো যখন ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতা একসঙ্গে সম্মিলিতভাবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে ব্রাসেলস ও নয়াদিল্লির মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) কর্তব্যপথে প্রধান অতিথির আসনে থাকবে EU
এই আমন্ত্রণের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, কারণ এটি শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের নয়, বরং সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন নামক বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্লকের সাথে ভারতের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। প্রজাতন্ত্র দিবসে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একটি অভিনব ঘটনা। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র ইতিমধ্যেই এই আমন্ত্রণকে ভারত-ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্বের “গভীর শিকড় ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের” প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আরও পড়ুন: বিরাজ করছে যুদ্ধের আবহ, তার মাঝেই ভারতকে ধন্যবাদ জানাল ইরান? ব্যাপারটা কী?
এই সময়টির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান ত্বরান্বিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে সভাপতি ভন ডের লেইন এই আসন্ন চুক্তিকে “সব চুক্তির জননী” বলে উল্লেখ করেছেন, যা উভয় পক্ষের জন্য একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের এই যৌথ উপস্থিতি কেবল বাণিজ্য নয়, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপদ সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করাসহ বহুক্ষেত্রের সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার সংকেত বহন করে।
ঐতিহাসিকভাবে, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথির তালিকা দেশটির বিদেশনীতি ও বৈশ্বিক অগ্রাধিকারেরই দর্পণ হিসেবে কাজ করে। অতীতে শীতল যুদ্ধের সময় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতাদের আমন্ত্রণ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, আসিয়ান নেতৃবৃন্দ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ, সবই ভারতের পরিবর্তনশীল কৌশলগত মনোভাবকে চিহ্নিত করেছে। এবারের আমন্ত্রণ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ভারত তার বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মানচিত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অত্যন্ত উচ্চ স্থান দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: রেগে বউ চলে গিয়েছে বাপের বাড়ি, মায়ের কাছে দরবার করেও কাজ না হওয়ায় ছেলে আতাউল্লাহুর হাতে খুন বৃদ্ধা
বিশ্লেষকদের মতে, একটি বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থায় জিওপলিটিক্যাল উত্তেজনার মধ্যেও ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে গণতন্ত্র, মুক্ত বাজার এবং নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি এই যৌথ প্রত্যয় একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠায়। সভাপতি ভন ডের লেইন এবং সভাপতি কস্তার উপস্থিতি কেবল একটি অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণ নয়, বরং দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যকার গভীর ও বহুমুখী সম্পর্কের প্রতি এক সচেতন অঙ্গীকার, যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।













