বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তানে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আসিম মুনির সহ পাক সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধীরা। আগামী ৭ জুন সেখানে ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে রাখতে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গিলগিট-বালটিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
গিলগিট-বালটিস্তানে নির্বাচন নিয়ে সন্ত্রাস ছড়াতে জঙ্গি সংগঠনগুলির দ্বারস্থ পাক (Pakistan) সেনা:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিলগিট-বালটিস্তানের বহু বিরোধী নেতা ও রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেককে নির্বাচনী প্রচার থেকে দূরে রাখা হয়েছে, আবার বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এমন কয়েকটি সংগঠন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে যাদের অতীতে উগ্রপন্থী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের নাম। পাকিস্তানে একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই সংগঠনকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! পেট্রোল-ডিজেল সহ ATF-এ কমল রফতানি শুল্ক
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলিকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামানোর অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযুক্ত ‘মিল্লি মুসলিম লিগ’-এর মতো সংগঠনকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবারও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের। তাঁদের মতে, নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব বিস্তার এবং নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে আকৃষ্ট করার জন্য এমন সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও পাকিস্তানের সরকারি মহল এই ধরনের অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেনি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
গিলগিট-বালটিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের প্রশাসনিক নীতি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় মানুষের একাংশ বহুবার অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং সাংবিধানিক মর্যাদা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পটভূমিতেই এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান (Pakistan) তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। দলটির বহু নেতার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এমনও দাবি করা হয়েছে যে, কিছু নেতাকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে সমতা বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও সরকারি পক্ষ এই অভিযোগ খারিজ করেছে।

আরও পড়ুন: ‘প্রথম পর্যায়ের টাকা…’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের পরিসংখ্যানও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। জানা গিয়েছে, মোট ৪০৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭২ জন নির্দল হিসেবে লড়ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই নির্দল প্রার্থীদের অনেকেই প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন পাচ্ছেন। তাঁদের প্রচারে বিশেষ সুবিধা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং প্রচারযন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে গিলগিট-বালটিস্তানের নির্বাচন শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং পাকিস্তানের (Pakistan) গণতান্ত্রিক কাঠামো, সামরিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। আগামী ৭ জুনের ভোট এবং তার ফলাফল এখন আন্তর্জাতিক মহলও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।













