যুদ্ধের দামামার মাঝেই খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা, গম উৎপাদনে বড় ধাক্কা পাকিস্তানে

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: চরম আকার নিয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Pakistan-Afghanistan) সংঘাত। এবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। সীমান্তে উত্তেজনার আবহেই নতুন করে সামনে এসেছে পাকিস্তানে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। মার্কিন কৃষি দপ্তরের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি মরসুমে দেশে ২০ থেকে ২২ লক্ষ টন গম উৎপাদন কম হতে পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই সম্ভাব্য এই ঘাটতি ইসলামাবাদের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধের আবহে খাদ্য সংকটে পাকিস্তান (Pakistan)

মার্কিন এই রিপোর্ট ঘিরে আরও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রধান খাদ্যই গমভিত্তিক। রুটি, পাঁউরুটি, নান-সহ দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার বড় অংশ জুড়েই থাকে গমজাত খাবার। ফলে গমের উৎপাদনেই যদি বড়সড় ঘাটতি দেখা দেয়, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারদর, খাদ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: গরম ভাতে জাস্ট জমে যাবে, ঘটিবাড়ির স্টাইলে ঝাল ঝাল পেঁয়াজ পোস্তর রেসিপি

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চাল ও ভুট্টা আমদানি করলেও গম উৎপাদনে মূলত ঘরোয়া ব্যবস্থার উপরই নির্ভরশীল। সেই জায়গায় হঠাৎ ২০ লক্ষ টনের বেশি ঘাটতির আশঙ্কা দেশের কৃষি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানি বাড়ানো বা ভর্তুকি দেওয়ার মতো পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে বলে দাবি অর্থনীতিবিদদের।

এমন  সময় এই ঘাটতির আশঙ্কা সামনে এল, যখন আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাত একেবারে চরমে পৌঁছেছে। আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় আকাশপথে হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। শুক্রবার কাবুল এবং কান্দাহারেও হামলা চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ঘোষণা করেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের পথে এগোচ্ছে দেশ। ইসলামাবাদ এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল হক’।

Pakistan faces food crisis amid war situation

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে UPI-র দাপট! এবার এই দেশেও শুরু হচ্ছে পরিষেবা, বৃদ্ধি পাবে আর্থিক সংযোগ

দু’পক্ষই একে অপরের ওপর পাল্টা হামলার দাবি করেছে এবং বহু সেনা হতাহতের কথাও জানিয়েছে, যদিও সেই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। একদিকে সীমান্তে যুদ্ধের আবহ, অন্যদিকে সম্ভাব্য গম সংকট—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ, মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।