বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল খাইবার পাখতুনখোয়াকে (Khybar Pakhtunkhwa) কেন্দ্র করে। ইমরান খানের (Imran Khan) দল পাকিস্তান তেহরিক-এ-ইনসাফ (PTI)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরস রুল জারির খবর ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাংবিধানিক শাসন নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর ফলে প্রদেশে PTI-র ক্ষমতা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরস রুল এক বিষয় নয়। ঠিক কোন সাংবিধানিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
ইমরান সরকারের শেষ চিহ্ন মুছে খাইবার পাখতুনখোয়ায় লাগু ইমার্জেন্সি পাকিস্তানের (Pakistan):
২০২৪ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ইমরান খানের দল সমর্থিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও সরকার গঠন করতে পারেনি PTI। বিরোধী দলগুলির জোটের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হন শেহবাজ শরিফ, আর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন আসিফ আলি জারদারি। এর পর থেকে কেন্দ্রের শাসক জোট এবং ইমরানের দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা জেলে বন্দি। তাঁর মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন ও লং মার্চের ডাক দিয়েছে PTI। এই পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়াকে ঘিরে কেন্দ্রের নতুন পদক্ষেপ রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Pakistan)।
আরও পড়ুন: ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কর্মসূচি বিরোধীদের! বন্ধ রাজধানীর ৬ টি মেট্রো স্টেশন
প্রদেশটিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন PTI সমর্থকদের লং মার্চ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছিল। ‘ডন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার আন্দোলনকারীরা ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দূরে ছিলেন। রাজধানীর দিকে তাঁদের অগ্রসর হওয়া আটকাতে প্রশাসনও প্রস্তুতি নিচ্ছিল। PTI-র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলি খান এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একে গুরুতর রাজনৈতিক ভুল এবং অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে সন্ত্রাসে জর্জরিত অঞ্চলে শান্তি ফেরার বদলে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক প্রশাসনের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে।

খাইবার পাখতুনখোয়া পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে, আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর হামলা এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে ফেডারেল মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গভর্নর ফয়সল করিম কুন্দিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিরাপত্তার যুক্তি সামনে এলেও বিরোধীদের আপত্তি থামেনি।
আরও পড়ুন: দেবীপক্ষের মধ্যেই আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে বড় পদক্ষেপ ইডির! শহরের ৮ জায়গায় চলছে তল্লাশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি এবং সাংবিধানিক শাসন নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের (Pakistan) সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে পদক্ষেপ অনুমোদন করেছেন। এই সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক পরিসর ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। PTI-র দাবি, এমন পদক্ষেপ প্রদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে; অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির যুক্তি সামনে এসেছে। ফলে খাইবার পাখতুনখোয়াকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পাকিস্তানের কেন্দ্র-প্রদেশ সম্পর্ক এবং ইমরান খানের দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।














