বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করায় রীতিমতো ঘুম উঠেছে পাকিস্তানের। শুধু তাই নয়, ভারতের (India) এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান (Pakistan) গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই আবহে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের সিন্ধু জল কমিশনের কমিশনার মেহের আলী শাহ, পাকিস্তানে জলের ঘাটতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন। মেহের আলীর মতে, চলতি বছরের মে মাসে প্রায় ১৬,০০০ কিউসেক কম জল ছাড়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি শুধুমাত্র চেনাব নদীর জন্য। পাকিস্তান এখনও সিন্ধু ও অন্যান্য নদীর তথ্য সংগ্রহ করছে। মেহের আলী বলেছেন যে, ভারত জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।
সিন্ধু চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত হওয়ায় দিশেহারা পাকিস্তান!
ডন পত্রিকায় প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে মেহের আলী শাহ জানান, “২০২৫ সালের মে মাস থেকে জলের প্রবাহ কমছে। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু এখন প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক।’ জানিয়ে রাখি যে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও হামলার পর ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে জল চুক্তি স্থগিত করে। মেহের আলী বলেন, ভারত চেনাব নদীর জল বিয়াস নদীতে প্রবাহিত করার ফলে জলের প্রবাহ কমে গেছে। এর ফলে, কোনও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাকিস্তানের মারালায় চেনাব নদীর প্রবাহ ২০২৫-এর মে মাসের ৭৮,২৭৬ কিউসেক থেকে কমে ১,৫২৭ কিউসেক হয়েছে।

একইভাবে, ডিসেম্বরে তা আরও কমে ৮৭০ কিউসেক-এ নেমে আসে। জলপ্রবাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের প্রভাব চলতি বছরও অনুভূত হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে একই ঘটনায় মারালার নিকটবর্তী এলাকায় জলের প্রবাহ ২১,৮৮৭ কিউসেক থেকে কমে ৫,৬৮৯ কিউসেক-এ নেমে আসে। পরিমাণের হ্রাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাকিস্তান চেনাব থেকে প্রায় ১৬,০০০ কিউসেক কম পানি পেয়েছে। এদিকে, ভারতের জল সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের আগে পাকিস্তান আগে গড়ে ৪৬,০০০-৪৮,০০০ কিউসেক জল পেত।
আরও পড়ুন: টাটা ট্রাস্টস থেকে আগেই অপসারিত! এবার ফ্যামিলি অফিস থেকে ইস্তফা রতন টাটার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর
পাকিস্তান কেন উদ্বিগ্ন: মেহের আলী শাহ জানিয়েছেন, ভারত সিন্ধু, চেনাব এবং অন্যান্য পশ্চিমী নদীর জল অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই লক্ষ্যে বাঁধ ও অন্যান্য নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এই প্রচেষ্টা সফল হলে ভবিষ্যতে পাকিস্তান এক ফোঁটাও জল পাবে না। পাকিস্তানের ২৪ কোটি জনসংখ্যার জন্য এই জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, পাকিস্তানের অর্থনীতি এই নদীগুলির জলের ওপরেও নির্ভরশীল। এই নদীগুলির জল কৃষিকাজে শক্তি জোগায়। যা পাকিস্তানের অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশে অবদান রাখে। তাই, জলের সঙ্কট গভীর হলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে দল! ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাবার মৃত্যুসংবাদ পেলেন কোচ
একের পর এক অভিযোগ পাকিস্তানের: ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার জলকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেছেন। এদিকে, ক্ষমতাসীন জোটের নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো এই ঘটনাটিকে হরমুজ প্রণালী বিবাদের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, জল আটকে রাখার পাশাপাশি ভারত আরও বিভিন্ন উপায়ে তাদের হয়রানি করছে। যেমন পাকিস্তানে, যখন বীজ বপনের সময় হয় এবং জলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় তখন ভারত জল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু, যখন ফসল কাটার জন্য প্রস্তুত হয়, তখন হঠাৎ করে জল ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।













