১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের তোড়জোড়! মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ফোনালাপ মোদীর

Published on:

Published on:

Phone call between Narendra Modi-JD Vance amidst 100 percent tariff impose issue.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাশিয়া (Russia) থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর আমেরিকার সম্ভাব্য কড়া শুল্কের আশঙ্কার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi-JD Vance) সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। শনিবার রাতে হওয়া এই ফোনালাপে ভারত-আমেরিকার সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারি আরও শক্তিশালী করার উপায় এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ফোনালাপের পর নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদী জানান, দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। ফলে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই কথোপকথনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ফোনালাপ মোদীর (Narendra Modi-JD Vance):

ফোনালাপের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি ছিল ব্যক্তিগত শুভেচ্ছার পর্বও। সম্প্রতি পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন জেডি ভান্স (Narendra Modi-JD Vance)। তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী ঊষাকে এই সুখবরের জন্য অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভান্সের পরিবারের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি। ফলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ফোনালাপে ব্যক্তিগত সৌজন্যও উঠে এসেছে। তবে এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময়ই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতকে ঘিরে আমেরিকার নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে রয়েছে—রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য।

আরও পড়ুন: পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন বিশ্বভারতী, দীর্ঘ অপেক্ষার পর পর্যটকদের জন্য খুলল শান্তিনিকেতন গৃহ

এর মধ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল মার্কিন সেনেটে চূড়ান্ত ভোটে পাস হয়েছে। শুক্রবারের ভোটাভুটিতে ৮৬ জন সদস্য বিলটির পক্ষে এবং ১১ জন বিপক্ষে ভোট দেন। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিলটি নিয়ে সেনেটে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত বাধা অতিক্রম করানোর সময়ও বিপুল সমর্থন মিলেছিল—সেবার পক্ষে ভোট পড়েছিল ৮৬টি এবং বিপক্ষে ১২টি। এখন বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের অন্য কক্ষ, হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভে পেশ হওয়ার কথা। দুই কক্ষেই অনুমোদন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রাশিয়া থেকে তেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর বড় ধরনের শুল্ক চাপানোর সুযোগ। বিল অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে—এমন দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে থাকতে পারে। ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি করা ভারত, চিন ও জাপানের মতো দেশগুলি এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। ইউক্রেন-সহ কয়েকটি দেশ অবশ্য এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের নীতির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নজর রয়েছে নয়াদিল্লির।

Phone call between Narendra Modi-JD Vance amidst 100 percent tariff impose issue

আরও পড়ুন: এবার মায়েদের জন্য আলাদা জায়গা, বদলে যাচ্ছে সমস্ত বাসস্টপ, যাত্রী পরিষেবার আর কী কী পরিবর্তন?

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের জ্বালানি বাণিজ্য এবং পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মোদী-ভান্সের এই ফোনালাপ তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে ভারত-আমেরিকার কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আলোচনা, অন্যদিকে রাশিয়া-সংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সম্ভাব্য শুল্ক—দুই বিষয়ই বর্তমানে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হয়ে উঠেছে। তবে সেনেটে পাস হওয়া বিলটি এখনও চূড়ান্ত আইন হয়নি। হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। তার আগে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই যোগাযোগকে কূটনৈতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল (Narendra Modi-JD Vance)।