বাংলা হান্ট ডেস্ক: দূর থেকে যতই পাহাড়কে দেখতে ভালো লাগুক না কেন। পায়ে পায়ে থাকে বিপদ। তাপমাত্রার হিমাঙ্ক ৫০-৬০ ডিগ্রির নিচে। পাশাপাশি বইছে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো হাওয়া। সঙ্গে ভার গ্লাস আতঙ্ক। যেখানেই পা দিচ্ছি সেখানেই মনে হচ্ছে তলিয়ে যেতে হতে পারে গভীর খাদে। এমনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক (Piyali Basak)।
মাকালু অভিযানে গিয়ে লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা পিয়ালী বসাকের (Piyali Basak)
মাকবুল অভিযানের গিয়েছিলেন হুগলি চন্দননগরের পর্বাতরোহী পিয়ালী বসাক (Piyali Basak)। বিপদসঙ্কুল সেই মাকালু অভি জানে গিয়েছিলেন তিনি। আর সেখানে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। চোখের সামনে প্রায় তিন হাজার ফুট গভীর খাদে পড়ে গিয়েছিলেন ২ পর্বতারোহী। এমনকি তাদেরকে বাঁচার সম্ভব খুব কম।

আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিক তৃতীয় সেমেস্টারে সাপ্লিমেন্টারি! পরীক্ষায় বসবে প্রায় ২,৫০০ পড়ুয়া
মাকালুর সামিট ক্যাম্প থেকে পিয়ালি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পর্বতারোহী আবুল ফজল নিখোঁজ। নেপালের পূর্বা ওয়াঙ্গেল শেরপাও নিখোঁজ। তিন হাজার ফুট নীচে পড়ে গিয়েছেন। ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’সেখানে গিয়ে পিয়ালী বসাক ভিডিওতে চূড়ার দিকে ইঙ্গিত করে বলছিলেন, ‘মাকালু সামিট দেখা যাচ্ছে। পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ। এর উচ্চতা প্রায় ২৮ হাজার ফুট।’ প্রত্যেক পদে রয়েছে বিপদের হাতছানি। তিনি আরও জানান ‘আজ পর্যন্ত শীতকালে মাকালু অভিযানে কেউ সফল হতে পারেনি। তবে অভিযান খুব ভালভাবে চলছিল।
কিন্তু ছিল জোরাল হাওয়া। তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও বলেছেন বেস ক্যাম্পে পৌঁছনোই খুব কঠিন ছিল। চারদিকে আইস ভারগ্লাস। পাথরের ওপর বরফ এমনভাবে জমে থাকে মনে হচ্ছে কাচের মতো লাগে। পা দিলেই খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। পাশাপাশি শৌচালয়ে জল নেই। নেইপানীয় জল। সব নদী, পাহাড়ি ঝর্না জমে বরফ হয়ে গিয়েছে। ট্রেকিং রুটেও বরফ জমে গিয়েছে। আমরা অ্যাডভান্সড বেসক্যাম্পে পৌঁছেছি। প্রত্যেক দিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা করে ট্রেকিং করছি। মাকালু আরোহন করা টেকনিক্যালি খুব কঠিন। যেখানে গরমকালে যাওয়া কঠিন,সেখানে শীতে কার্যত দুর্গম।’
তবে কীভাবে খাদে পড়ে গেলেন দুই পর্বতারোহী? এই বিষয়ে পিয়ালি বললেন, ‘আমরা যেদিন সামিটে যাব, আমার অক্সিজেনটা কাজ করছিল না। আবুল ফজল ও পূর্বা ওয়াঙ্গেল শেরপা স্যর আমাকে নীচে নেমে যেতে বলেন। ওঁরা নীচে নামলে আমি ওঁদের মাস্ক পরে ওপরে যাব, এমনই পরামর্শ দেন। কিন্তু শীতকালে এত হাওয়ায় অক্সিজেন ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়। এমনিতেই তিব্বত থেকে শুষ্ক হাওয়া বইছে। কিন্তু ওঁরা সামিট সেরে নামার সময়ই তিন হাজার ফুট নীচে পড়ে যান। উদ্ধারকারী দল খুঁজছে। তবে সেই দলের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পিয়ালী বসাক (Piyali Basak) প্রার্থনা করে বলেছেন, তাদের যেন জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়।’












