বাংলা হান্ট ডেস্কঃ যারা নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ করতে চান তাঁদের জন্য পোস্ট অফিসের একাধিক ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম পোস্ট অফিস এমআইএস স্কিম (Post Office MIS Scheme) তথা মান্থলি ইনকাম স্কিম (Monthly Income Scheme)। এই প্রকল্পে টাকা রাখলে বিনিয়োগকারী প্রত্যেক মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ পান। ফলে তাঁর একটি নিশ্চিত মাসিক আয় হয়।
পোস্ট অফিস এমআইএস স্কিমের খুঁটিনাটি | (Post Office MIS Scheme)
এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিজের টাকা এমন কোথাও বিনিয়োগ করতে চান, যেখানে কোনও ঝুঁকি নেই। পোস্ট অফিস এমআইএস স্কিম তাঁদের জন্য একটি দারুণ বিকল্প হতে পারে। এই প্রকল্পে বিনিয়োগকারীকে এককালীন টাকা জমা দিতে হয়। এরপর সেই অর্থের বিনিময়ে প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ পেয়ে থাকেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বিদ্যুৎ চুরি আটকাতে ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’! নতুন অ্যাপ আনল রাজ্য, ব্যবহারের পদ্ধতি জানুন
পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিমের মেয়াদ পাঁচ বছর। বর্তমানে এই প্রকল্পে বার্ষিক ৭.৪% হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। এই সুদ বার্ষিকভাবে গণনা করা হলেও প্রত্যেক মাসে অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। এছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিনিয়োগকারীকে তাঁর মূল বিনিয়োগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পোস্ট অফিস এমআইএস স্কিমে সিঙ্গেল ও জয়েন্ট দু’ভাবেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা হল ৯ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই অঙ্কটা ১৫ লক্ষ টাকা। এই স্কিমে মেয়াদপূর্তির আগেও টাকা তোলা যায়। তবে সেক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম আছে।
এমআইএস স্কিমে অ্যাকাউন্ট খোলার এক বছরের আগে টাকা তোলা যায় না। এক বছর পর ও তিন বছরের আগে যদি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়, সেক্ষেত্রে মূল জমার ২% টাকা কেটে নিয়ে বাকি টাকা দেওয়া হয়। তিন বছর পর ও পাঁচ বছরের আগে টাকা তুললে মূল জমার ১% কেটে নিয়ে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

পোস্ট অফিস এমআইএস স্কিমের হিসাব
ধরা যাক, কোনও বিনিয়োগকারী পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিমে যৌথ অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা রেখেছেন। তাহলে ৭.৪% সুদের হারের ভিত্তিতে মাসে মাসে সুদ হিসেবে ৯২৫০ টাকা পাবেন তিনি।
এছাড়া পোস্ট অফিস এমআইএস স্কিমের আরেকটি সুবিধা হল, বাজারের ওঠানামার জেরে এটি প্রভাবিত হয় না। ফলে যারা নিরাপদ, ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি ভাল বিকল্প হতে পারে।













