বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এ বছর পশ্চিমবঙ্গে আলুর ফলন এতটাই বেশি হয়েছে যে বাজারে তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে। চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি আলু ফলায় দাম একেবারে তলানিতে নেমে গিয়েছে (Potato Crisis)। অনেক চাষি খরচের দামও তুলতে পারছেন না, আবার বহু জায়গায় আলু মাঠে পড়ে নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সমস্যার মধ্যেই তারকেশ্বর থেকে অসম ও ত্রিপুরার মতো ভিন রাজ্যে রেলপথে আলু পাঠানো শুরু করেছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আলু ব্যবসায়ী সংগঠন।
কেন ভিন রাজ্যে আলু পাঠাচ্ছে তৃণমূল (Potato Crisis)?
তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আলু ব্যবসায়ী সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ পট্যাটো গ্রোয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অর্গানাইজেশনের দাবি, এতে অতিরিক্ত আলু বাইরে বিক্রি হলে চাষিরা কিছুটা ভালো দাম পাবেন এবং রাজ্যের বাজারেও চাপ কমবে (Potato Crisis)। রেলের মালগাড়িতে করে অসম ও ত্রিপুরায় আলু পাঠানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রতিটি মালগাড়িতে প্রায় ৪২ হাজার প্যাকেট আলু যাচ্ছে এবং সপ্তাহে অন্তত দু’টি মালগাড়ি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পদক্ষেপে কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে চাষিদের মধ্যে এখনও সংশয় রয়েছে।
সংগঠনের কর্মকর্তাদের দাবি, ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো শুরু হওয়ার পর বস্তা পিছু প্রায় ২০ টাকা দাম বেড়েছে। এখন চাষিদের কাছ থেকে বস্তা প্রতি ২৬০ টাকায় আলু কেনা হচ্ছে। তবে চাষিদের একাংশ এখনও এই উদ্যোগে পুরোপুরি ভরসা পাচ্ছেন না। তাঁদের বক্তব্য, এখনও বহু জায়গায় মাঠে আলু পড়ে রয়েছে এবং অনেক ব্যবসায়ী ১৬০ টাকাতেও আলু কিনতে চাইছেন না। বাজারে মন্দা থাকায় দেনার চাপও বাড়ছে। এর জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আলু চাষিদের দুরবস্থার খবরও সামনে এসেছে (Potato Crisis)।
এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, ভোটের আগে তৃণমূল চাষিদের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছে। তাঁর কটাক্ষ, এই দামে আলু কেনা আসলে চাষিদের “ললিপপ” দেখানোর মতো, এতে বাস্তবে খুব বেশি লাভ হবে না।
প্রসঙ্গত, এ বছর রাজ্যে মোট আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। আগের বছরগুলিতে সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৯৫ লক্ষ মেট্রিক টন। সেখানে রাজ্যের মোট চাহিদা প্রায় ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন। হিমঘরে মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে ৮৫ লক্ষ মেট্রিক টন পর্যন্ত। অর্থাৎ চাহিদা ও সংরক্ষণ, দুইয়ের তুলনায় উৎপাদন অনেকটাই বেশি (Potato Crisis)। চাষিদের হিসেব অনুযায়ী, এক বস্তা আলু উৎপাদনে গড়ে ৩৭৫ টাকা খরচ হয়। হিমঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে আরও ৭৫ টাকা লাগে। এর সঙ্গে আলাদা করে হিমঘরের ভাড়াও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ঘাটাল থেকে এবার সরাসরি মুম্বাই, ট্রেনের ঝক্কি কাটাতে ভোটের আগেই চালু এসি-স্লিপার বাস পরিষেবা
সেই তুলনায় বাজারে এখন আলুর দাম ১৬০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। যদিও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সংগঠন ২৪০ টাকা দরে আলু কিনছে, যা সাধারণ বাজারদরের তুলনায় কিছুটা বেশি। সব মিলিয়ে, অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে যে সংকট (Potato Crisis) তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর এই উদ্যোগ। এতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও চাষিদের বড় অংশ এখনও স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়।












