ইমপ্ল্যান্ট, অ্যান্টিবায়োটিক কেনাই দায়! আয়ুষ্মান ভারতের রেট বাড়ানোর আবেদন হাসপাতাল সংগঠনের

Published on:

Published on:

Private Hospitals and Nursing Homes demand Ayushman Bharat Scheme and CM Health Scheme rates to be revised

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ (Swasthya Sathi) থেকে ‘আয়ুষ্মান ভারত পিএম-জেএওয়াই’ (Ayushman Bharat Scheme PMJAY) ও ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’তে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মাঝে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার বিভিন্ন প্যাকেজের খরচ পর্যালোচনার দাবি জানাল ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোম’ (APHNH)।

রাজ্যের প্রায় ১২০০টি ছোট ও মাঝারি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এই APHNH সংগঠনের সদস্য। তাদের দাবি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বেশ কিছু চিকিৎসার প্যাকেজ রেট আগের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের তুলনায় অনেকটাই কম রাখা হয়েছে। এর ফলে রোগীদের সঠিক ও উন্নত পরিষেবা প্রদান করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নার্সিংহোমগুলি।

চিকিৎসকদের দাবি

অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা চিকিৎসক রাজীব কুমার পাণ্ডের মতে, বিশেষ করে অর্থোপেডিক সার্জারির ক্ষেত্রে রেট এতটাই কম যে, নার্সিংহোমগুলির পক্ষে উন্নত মানের ইমপ্ল্যান্ট বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করাটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের কাছে রেট বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলা লুট করে কংগ্রেসের সাথে হাত মেলাচ্ছে! ইন্ডিয়া সমাবেশ নিয়ে বিস্ফোরক স্মৃতি ইরানি

এছাড়াও ICU Care, জেনারেল সার্জারি সহ ইমপ্ল্যান্টের প্যাকেজগুলি নিয়মিত পর্যালোচনা করার দাবি তুলেছে সংগঠনটি। তাছাড়া চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর কোনও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে, সেই অতিরিক্ত খরচ কীভাবে মেটানো হবে? তা নিয়েও সুস্পষ্ট নীতি তৈরির কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রকল্পের প্যাকেজ লিমিট শেষ হলে কী হবে?

ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা বড়সড় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক সময় চিকিৎসার মাঝপথেই প্রকল্পের নির্ধারিত প্যাকেজ লিমিট শেষ হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর পরিবারকে কী করতে হবে? এর জন্যও কোনো পরিষ্কার নির্দেশিকা নেই, সেটাও দাবি করেছেন চিকিৎসকরা।

তাছাড়া বকেয়া বিল মেটানোর প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হয়েছে হাসপাতালগুলি। নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্প চালুর শুরুর দিকে ক্লেমের টাকা পেতে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে তা অনেকটাই নিয়মিত। তবুও, ডিজিটাল ক্লেম ট্র্যাকিং, বিল বাতিলের লিখিত কারণ দেখানো ও বিল মেটানোর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা চালুর দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি হাসপাতাল ও থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের বা TPA এর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ভুয়ো বিলের অভিযোগ তুলেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল সংগঠনটি জানিয়েছে, দুর্নীতির বিষয়টি তারাই প্রথম সরকারের নজরে এনেছিল। অনৈতিক কাজ রুখতে ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা সর্বদা প্রশাসনের পাশেই রয়েছে।