বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোট শেষ হতেই রাজ্যে ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়ে জল্পনা ক্রমেই জোরাল হচ্ছে। সেই আবহে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হল একটি জনস্বার্থ মামলা, যেখানে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিষয়টি ওঠে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চে।
ভোট পরবর্তী হিংসায় মামলা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)
আইনজীবী চিত্তরঞ্জন পাণ্ডা এই মামলা দায়ের করে দাবি করেন, ফল ঘোষণার পর রাজ্যে হিংসা ছড়াতে পারে। আবেদনকারীর যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতিরা। শুনানির সময়ই বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও হিংসা হয়নি । আবেদন এক্ষণি খারিজ করব । হিংসার বিষয়টি সম্পূর্ণ আপনার অনুমান ৷”
মামলাকারীর তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এর ফলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আগামী ৪ মে ফল ঘোষণা হওয়ার কথা, আর তার পর অল্প কয়েকদিনই বাহিনী মোতায়েন থাকবে। অতীতে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী সংঘর্ষের উদাহরণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আবেদনকারী।
এছাড়া, বুথভিত্তিক ফল প্রকাশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফর্ম ১৭সি জমা দেওয়ার পর প্রতিটি বুথে কোন দল কত ভোট পেয়েছে সেই তথ্য প্রার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। এই তথ্য সামনে আসার পর বিরোধ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবেদনকারীর দাবি, ইতিমধ্যেই আসানসোলে একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শাসকদল তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে আলাদা বুথভিত্তিক ফল না প্রকাশ করে একত্রে সামগ্রিক ফল ঘোষণা করা হয়। এতে উত্তেজনা কমতে পারে বলে মত আবেদনকারীর। এই মামলার ক্ষেত্রে দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে।
এদিকে, প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এদিন উপস্থিত না থাকায় তাঁর বেঞ্চের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেখানেও শুনানি হতে পারে। প্রসঙ্গত, এবারের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে দুই দফায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম পর্যায়ে ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে ভোট হয়।

আরও পড়ুন : ভোটগণনার ঠিক আগেই হাই কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল, জোর অস্বস্তিতে শাসকশিবির
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেছেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট প্রক্রিয়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। ফল ঘোষণার আগেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা ও পাল্টা মতামত সামনে আসছে। এখন আদালতের পরবর্তী অবস্থানই নির্ধারণ করবে এই বিতর্ক কোন দিকে এগোয়।












