বাংলাহান্ট ডেস্ক: কঠিন বাস্তবতা, চরম দারিদ্র্য আর একের পর এক বাধা পেরিয়ে সাফল্যের (Success Story) শিখরে পৌঁছে নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ তৈরি করেছেন এরকম অনেকেই আছেন। আজকেরও গল্প সেরকম একজনেরই। যিনি ১৯৮৯ সালে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে যে সংস্থায় কাজ শুরু করেছিলেন, আজ সেই কোম্পানিরই সিইও। তিনি আর কেউ নন বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত নাম করা কোম্পানি ডেলোয়েটের সিইও পুনিত রেঞ্জেন। ইচ্ছে আর অদম্য মানসিক শক্তি থাকলে যে অসম্ভব কিছু নয়, পুনিতের জীবনকাহিনি তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।
পুনিত রেঞ্জেনের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
শৈশব থেকেই সংগ্রাম ছিল পুনিতের নিত্যসঙ্গী। সংসারের টানাপোড়েনে বাবা-মা সময়মতো স্কুলের ফি দিতে না পারায় ছোট বয়সেই স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি পুনিত। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কোনও রকমে স্কুল জীবন শেষ করেন এবং রোহতকের একটি স্থানীয় কলেজ থেকে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ছোট শহরের সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যেও তাঁর চোখে ছিল বড় স্বপ্ন—জীবনে কিছু করে দেখানোর তাগিদ।
আরও পড়ুন: পুরনো গয়নায় হচ্ছে বিয়ে! পাকিস্তানে সোনা কিনতে ভয় পাচ্ছেন ধনীরাও, দাম জানলে চমকে উঠবেন
সেই স্বপ্নই তাঁকে টেনে নিয়ে যায় দিল্লিতে। একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন দেখে কাজের সন্ধানে রাজধানীতে পাড়ি দেন পুনিত। সেখান থেকেই তাঁর জীবনে আসে বড় মোড়। নিজের চেষ্টায় তিনি অর্জন করেন ‘রোটারি স্কলারশিপ’। এই স্কলারশিপই খুলে দেয় বিদেশে পড়াশোনার দরজা। জীবনে প্রথমবার বিমানে চেপে আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন পুনিত, সঙ্গে মাত্র দু’জোড়া জিন্স আর হাতে গোনা কয়েকটি ডলার।
আমেরিকায় গিয়ে শুরু হয় নতুন লড়াই। ইংরেজি ভাষার উচ্চারণ বুঝতে না পারায় প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ধরাই কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু হাল না ছেড়ে তিনি প্রথম সারির বেঞ্চে বসে টেপ রেকর্ডারে লেকচার রেকর্ড করতে শুরু করেন। পরে হোস্টেলে ফিরে সেই রেকর্ড বারবার শুনে বিষয় আয়ত্ত করতেন পুনিত। এই অধ্যবসায়ই ধীরে ধীরে বদলে দেয় তাঁর ভাগ্য।

আরও পড়ুন: ঘরে বন্দি করে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে ‘পিটুনি’, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এই নেতার বিরুদ্ধে
পরিশ্রমের ফল মিলতে দেরি হয়নি। একটি স্থানীয় ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে আমেরিকার সেরা দশ ছাত্রের তালিকায় স্থান পান পুনিত। সেখান থেকেই তাঁর প্রতি নজর পড়ে ডেলয়েট কর্তৃপক্ষের। চাকরি পান তিনি, শুরু হয় দীর্ঘ কর্পোরেট সফর। টানা ৩৩ বছর একই সংস্থায় কাজ করে দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণে আজ তিনি ডেলয়েটের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত। দারিদ্র্য থেকে আন্তর্জাতিক কর্পোরেট দুনিয়ার শীর্ষে পৌঁছনোর এই যাত্রা নিঃসন্দেহে এক বিরল সাফল্যের কাহিনি।












