বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় সমাজে সোনা দীর্ঘদিন ধরেই শুধু অলংকার নয়, বরং সঙ্কটকালে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কিন্তু প্রতিবেশী পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম (Gold Price in Pakistan) এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এই মূল্যবান ধাতু। মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ মিলিয়ে সেখানে সোনা এখন বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হলেও কেনা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি এমন যে, সচ্ছল পরিবারগুলিও নতুন করে সোনা কেনার আগে একাধিকবার হিসাব কষছেন।
পাকিস্তানে (Gold Price in Pakistan) অগ্নিমূল্য সোনার দাম:
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে প্রায় ৪৩,৫৩২ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে, যা ঐতিহাসিক রেকর্ড ছুঁয়েছে। তোলা হিসেবে হিসাব করলে এক তোলা ২৪ ক্যারেট সোনার মূল্য ৫ লক্ষ ১৫ হাজার থেকে ৫ লক্ষ ১৯ হাজার পাকিস্তানি রুপির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এই দাম মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সোনা কেনাকে কার্যত অসম্ভব করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: বিনা পর্যবেক্ষণে বাড়ছে অটিস্টিক সন্তানের অসুস্থতা, বাড়ির কাছে বদলি চেয়ে হাইকোর্টে মামলা শিক্ষিকার
গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত ২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রেও স্বস্তির কোনও লক্ষণ নেই। এর দাম প্রতি গ্রাম ৪০,৫৩৪ থেকে ৪১,২৫৭ পাকিস্তানি রুপির মধ্যে রয়েছে। করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদের মতো বড় শহরগুলিতে দামের তফাৎ খুবই সামান্য, যা স্পষ্ট করে যে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব গোটা দেশ জুড়েই সমানভাবে পড়েছে। ফলে বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য সোনা কেনা এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঊর্ধ্বমুখী দামের সামাজিক প্রভাবও গভীর। আগে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলি মেয়ের বিয়ের জন্য অল্প অল্প করে সোনা জমাতেন, কিন্তু এখন সেই প্রথা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বহু মানুষ নতুন গয়না কেনার বদলে পুরনো সোনা বদলানো বা হালকা গয়নায় সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে একসময় তুলনামূলক সস্তা বলে পরিচিত রুপোর দামও দ্রুত বেড়েছে—৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি তোলা রুপোর দাম প্রায় ৮,০০০ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে এবং প্রতি গ্রাম রুপোর জন্য গড়ে প্রায় ৭০০ রুপি দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: করতে হবে করমর্দন! ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলার প্রসঙ্গে ICC-র সামনে ৩ টি শর্ত রাখল পাকিস্তান
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ পাকিস্তানি রুপির ধারাবাহিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ। ডলারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রার পতন ঘটলে আমদানি করা সোনা ও রুপোর দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। গত এক বছরে রুপোর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও রুপোর কারিগররা সমস্যায় পড়েছেন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












