বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বীরভূম থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে এসেছিলেন বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল (Purnadas Baul)। জমি দখলের (Land encroachment) মতো মারাত্মক অভিযোগ করেছেন তিনি। শান্তিনিকেতনে তাঁর যে আশ্রম সেই জমি দখলের অভিযোগ জানিয়েছেন। পাশপাশি ইলামবাজারের আরও একটি জমি সেই জমি দখলেরও অভিযোগ করা হচ্ছে। সেই ২০০৮ সাল থেকে এই অভিযোগ নিয়ে তিনি অনেকের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন, কিন্তু আজও কোনো সুরাহা মেলেনি। সরকার পরিবর্তন হয়েছে তারপরেও কোনোরকম আশ্বাস তাঁকে দেওয়া হয়নি।
বীরভূম থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল
তবে এদিন বাউল শিল্পী তাঁর যে সমস্যা সেকথা তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনে তুলে ধরেন। তারপর তাঁকে এদিন আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্ষীয়ান বাউল শিল্পী এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘ওরা বন্দোবস্ত করেছে, সব কথা বলেছে। যা যা খরচ হবে ওরা সবকিছু দিয়ে দেবে। ওরা বলেছে এটা দিয়ে দিয়েছি বাউল অফ বেঙ্গলকে।’ একইসাথে শিল্পী এদিন জানিয়েছেন, জঙ্গলরাজ শেষ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে নিজের খুশীর কথাও জানাতে ভোলেননি বর্ষীয়ান শিল্পী।
অন্যদিকে পূর্ণদাস বাউলের ছেলে জানালেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দু-তিন মাসের মধ্যেই আপনাদের আশ্রমটা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব এবং আমরাই তৈরি করে দেব। আর ইলামবাজারটা উনি ডিএমকে বললেন কি অবস্থায় আছে তা জানাতে।’
আরও পড়ুনঃ ‘দিদি লড়ে নিন আর একবার’, মমতাকে উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর ডাক বিজেপি মন্ত্রী পূর্ণিমার
যারা তাঁদের জমি দখল করে নিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে বাউল শিল্পীর ছেলে বললেন, ‘শাস্তিটাই কি মেন, ক্ষমাটাও একটা গুণ। কেউ যদি ভুল কিছু করে। কিছু টিএমসির মানুষ যার মধ্যে একজনের নাম সুকুল টুডু, তাকে আজ অবধি দেখতে আমি পাইনি। সে ছেলে না মেয়ে? তাই এই সুকুল টুডুকে টেনে বার করা উচিত। তার নামে অন্য কেউ করছে কিনা, সেটা আমাদের জানা উচিত।’
তিনি জানিয়েছেন ওই আশ্রমটা ছিল মোট সাড়ে তিন বিঘা জমির আর ওই জমিটা ছিল চার বিঘার। তাঁর আশা রাজ্যের শাসনভার বিজেপির হাতে আসায় এবার বীরভূমে জঙ্গলরাজ মুক্ত হবে। অন্যদিকে তৃণমূলের দুর্দণ্ড প্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাউল পুত্র এদিন বললেন, ‘বীরভূম চত্বরে অনুব্রতর অর্ডার ছাড়া একটা পাতাও নড়ত না। কাজল-ফাজল তো আজকের। অনুব্রতর কাছেও গিয়েছিলাম, চাঁদু বাবুর কাছেও গিয়েছিলাম, বলা হয় দেখছি দেখব।’
একই সাথে তাঁর সংযোজন, ‘এরপর যখন পুলিশকে বললাম, তখনকার ইলামবাজারের ওসি পরিষ্কার বললেন স্যার আপনি সব বুঝতে পারছেন।’ এই জমি দখলের পিছনে অনুব্রত মণ্ডলের হাত ছিল অবশ্যই বলে জানিয়েছেন বাউল পুত্র। তিনি জানিয়েছেন শুধু তাঁদের জমি নয়, বীরভূমে এমন হাজার হাজার জমি ওরা নিয়ে নিয়েছিল।













