বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের (India) ব্যস্ততম রেলপথগুলিতে (Indian Railways) ট্রেনের চাপ কমিয়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের গতি বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাপতিত্বে বুধবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উচ্চ-ঘনত্বের রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একাধিক প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, দেশের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোরকে ধাপে ধাপে চার-ট্র্যাকের রুটে পরিণত করার কাজ এগোচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতা থেকে শুরু করে বিলাসপুর-কাটনি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগগুলিকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের যে রুটগুলিতে যাত্রী ও মালগাড়ির চাপ সবচেয়ে বেশি, সেখানেই পরিকাঠামো বাড়িয়ে রেল পরিষেবাকে আরও সক্ষম করে তোলা।
ভারতীয় রেল (Indian Railways) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের দেশের ৭ ব্যস্ত করিডোরে বাড়ছে ট্র্যাক
এই সাতটি করিডোরের মধ্যে রয়েছে দিল্লি-মুম্বই, মুম্বই-চেন্নাই, চেন্নাই-কলকাতা, কলকাতা-দিল্লি, দিল্লি-চেন্নাই, মুম্বই-কলকাতা এবং দিল্লি-গুয়াহাটি রুট। রেল (Indian Railways) মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নেটওয়ার্কের প্রায় ৪০ শতাংশ রেল চলাচল এই সাতটি উচ্চ-ঘনত্বের করিডোরের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই রুটগুলিতে অতিরিক্ত লাইন তৈরি হলে একদিকে যেমন ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা বাড়বে, তেমনই ব্যস্ত অংশগুলিতে যানজট কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য আরও জায়গা তৈরি হওয়ায় শিল্প ও বাণিজ্যিক পরিবহণেও গতি আসতে পারে। ক্রমবর্ধমান যাত্রীসংখ্যা এবং মাল পরিবহণের চাপ সামলাতেই এই পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন: সমুদ্রের তলায় ‘বিপদ’! একটিমাত্র নোঙরেই বিচ্ছিন্ন হতে পারে ভারতের ইন্টারনেট সংযোগ
ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার রেলপথের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈষ্ণব। আরও প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটারের কাজ হয় ইতিমধ্যেই চলছে, নয়তো অনুমোদন পেয়েছে। বাকি প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার অংশের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা DPR তৈরির কাজ চলছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদিত প্রকল্পগুলির মধ্যে বিশেষ নজর রয়েছে মুম্বই-হাওড়া উচ্চ-ঘনত্বের রুটে খড়গপুর থেকে ঝাড়সুগুড়া পর্যন্ত চতুর্থ লাইন নির্মাণে। প্রায় ৩৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে আনুমানিক ৬,৫২৮ কোটি টাকা খরচ হবে। এই নতুন লাইন তৈরি হলে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও আরাক্কোনম-রেনিগুন্টা সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন তৈরির প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। প্রায় ৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাজের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১,৯৩৬ কোটি টাকা। দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে অতিরিক্ত লাইন তৈরি হলে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা মিলবে। একইসঙ্গে ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর-পেন্দ্রা এবং পেন্দ্রা-কাটনি অংশ নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এই রুটের কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই তিনটি লাইন রয়েছে, আবার কোথাও রয়েছে মাত্র দুটি। তাই পুরো বিলাসপুর-কাটনি সেকশনকে চার-লাইনের রুটে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ছত্তিশগড়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেল (Indian Railways) মন্ত্রকের মতে, এই সম্প্রসারণ শুধুমাত্র ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গেও এর সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ছত্তিশগড়ের মতো খনিজ ও শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্যে শক্তিশালী রেল পরিকাঠামো পণ্য পরিবহণ এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈষ্ণবের কথায়, গত ১২ বছরে রাজ্যে একাধিক নতুন রেল প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়েছে। সাতটি উচ্চ-ঘনত্বের করিডোরে চারটি করে লাইন তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথগুলিতে ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে যাত্রী পরিষেবা আরও মসৃণ করার পাশাপাশি মাল পরিবহণের গতি বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রেলপথের ভূমিকা আরও জোরদার করাই এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য।













