বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিয়ের পর মেয়েদের ভূমিকা শুধুই সংসার সামলানো— এমন প্রচলিত ধারণা আজও সমাজের নানা স্তরে দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। এখনও বেশ কিছু পরিবারে পুত্রবধূ মানেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির দেখভাল করাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। সেই স্টেরিওটাইপ প্রথা ভেঙে সাফল্য (Success Story) অর্জন করে নজির গড়েছেন হরিয়ানার আইএএস অফিসার পুষ্পলতা যাদব। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ ও সমর্থন পেলে নারীরাও জীবনের যেকোনও উচ্চতায় পৌঁছতে পারেন। দৃঢ়তা, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের একটানা সমর্থন, এই তিনের উপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর সাফল্যের গল্প।
পুষ্পলতার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার খুশবুরা গ্রামের বাসিন্দা পুষ্পলতা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। গ্রামের স্কুল থেকেই তিনি পড়াশোনা করেন। ২০১১ সালে বিয়ের পর তিনি মানেসরে চলে আসেন। বিয়ের আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। পরে স্টেট ব্যাঙ্ক অব হায়দ্রাবাদে সহকারী ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন। বিয়ের পরও চাকরির পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন তিনি।
আরও পড়ুন: বেকার ভাতার তালিকায় নাম না পেলে কী করবেন? যুবসাথী নিয়ে বড় আপডেট নবান্নের
সংসার, চাকরি এবং মাতৃত্ব— সব সামলেও তিনি নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দেননি। বিয়ের ছয় বছরের মধ্যে তিনি এক সন্তানের মা হন। যখন তাঁর সন্তান মাত্র দু’বছরের সেই সময়েই তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করেন। প্রথমে বিএসসি, পরে এমবিএ পাশ করেন তিনি। তবে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়া। ২০১৬-১৭ সালে তিনি পুরোপুরি UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
তবে তাঁর এই প্রস্তুতির পথ মোটেই সহজ ছিল না। ভোর ৪টায় উঠে পড়াশোনা শুরু করতেন পুষ্পলতা। দিনের বাকি সময় অফিস ও সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। প্রথম দুই প্রচেষ্টায় তিনি ব্যর্থ হন— প্রিলিমস পেরোলেও মেইনসে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবু হাল ছাড়েননি। এই কঠিন সময়ে তাঁর স্বামী সন্তানের দেখাশোনা করেন, শাশুড়ি খাবার-দাবারের দায়িত্ব নেন। পরিবারের সক্রিয় সহযোগিতাই তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশ পরিচালনা করতে প্রস্তুত মোজতবা! খামেনেইয়ের পুত্রই হলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার
অবশেষে ২০১৭ সালে সেই কাঙ্খিত সাফল্য আসে। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৮০তম স্থান অর্জন করেন। দেশের অন্যতম কঠিন এই পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে তিনি কেবল আইএএস অফিসারই হননি, অসংখ্য নারীর অনুপ্রেরণাও হয়ে উঠেছেন। ব্যর্থতা, চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশার বাধা পেরিয়ে পুষ্পলতা যাদব প্রমাণ করেছেন, স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার, আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে তা পূরণও সম্ভব।












