বাংলা হান্ট ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটচুরির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এই পদক্ষেপ করেছে বিরোধী শিবির। যদিও রাহুলের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের অভিযোগ, বিরোধীরা বিচারব্যবস্থার উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ টেনে রাহুলকে নিশানা করেছেন তিনি। অনুরাগের দাবি, রাষ্ট্রপতি যখন ভোটচুরির অভিযোগের প্রমাণ চেয়েছেন, তখনই রাহুল পিছিয়ে এসেছেন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁদের রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা আইনি পথ বেছে নিয়েছেন।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi)!
রবিবারই ‘সুপ্রিম কোর্ট অভিযান’-এর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পরিকল্পনা ছিল, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব-সহ জোটের শীর্ষ নেতারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁদের দাবিদাওয়া জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেবেন। তবে সেই পরিকল্পনায় বাধা আসে প্রধান বিচারপতির তরফে। আগের রাতেই তিনি জানিয়ে দেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীরা যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে চান, সেগুলি ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন এবং সেগুলির শুনানি চলছে। বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের বাইরে রাজনৈতিক আলোচনা না করার বার্তাও দেন তিনি। ফলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বিরোধী নেতাদের।
আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে আর করা যাবে না প্রতিবাদ কর্মসূচি! নির্দেশিকা দিল্লি পুলিশের, হুঙ্কার দিলেন অভিজিত দিপকে
এর পরেও নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পদযাত্রা শুরু করেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। তাঁদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাস্তায় নামায় রাজধানীতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোন। কিন্তু জনসমাগমের জেরে জোটের প্রতিনিধিদের বাস আটকে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে পৌঁছতে পারেননি রাহুলরা। এই পরিস্থিতিতে পিটিশন জমা দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত রাহুলের হয়ে আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন বলে জানা গিয়েছে। মামলাটির শুনানি মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে হওয়ার কথা। ফলে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ এবার আদালতে কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে অনুরাগ ঠাকুর বলেন, রাষ্ট্রপতি যখন ভোটচুরির অভিযোগের প্রমাণ চেয়েছেন, তখন রাহুল পিছিয়ে গিয়েছেন। তাঁর কটাক্ষ, রাহুল নিজে ৯৯টি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। অনুরাগের দাবি, বিরোধীদের অভিযোগের ভিত্তি নেই এবং আদালতের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই বক্তব্য বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভোটচুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী ও শাসক শিবিরের মধ্যে যে মতবিরোধ রয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আদালতে দায়ের হওয়া পিটিশনের বিষয়বস্তু এবং শুনানিতে বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণই পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এই মামলায় রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ছাড়াও ইন্ডিয়া জোটের আরও ১০ জন প্রতিনিধি সই করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সাংসদ সৌগত রায়ও পিটিশনে সই করেছেন। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনি পরিসরে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। অন্যদিকে, বিজেপি এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রচার এবং বিচারব্যবস্থার উপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়া, পদযাত্রায় ভিড়ের কারণে দেরি এবং শেষ পর্যন্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে পিটিশন জমা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, তা জানা গেলে মামলার পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।














